
মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি।।
খুলনার কয়রা উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কয়রা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্থানীয় বাজারের সিমেন্ট ব্যবসায়ী মোঃ আহসান হাবিব (৪৫), পিতা—মৃত নূরুল ইসলাম সানা, সাং—ইসলামপুর, ডাকঘর—ফুলহারাটি, উপজেলা—কয়রা, জেলা—খুলনা, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার বিকাল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটের সময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ হামলার শিকার হন।এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বাদীর নিকট ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময়ে হুমকি প্রদান করে। ঘটনার দিন বিকালে ১নং থেকে ৭নং পর্যন্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ব্যক্তি লোহার রড, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রসহ বাদীর দোকানে প্রবেশ করে।
মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—১। রায়হান আহমেদ টিটু(৪০),২। রাজু আহমেদ (৪৫),৩। মুরাদ হোসেন (৫০),৪। অপু সানা (১৯),৫। দিপু সানা (২১),৬। নাজমুল সাকিব (১৯),৭। মঈনুর রহমান ববি(৪০),৮।মাফুজা খাতুন (৪০)৯।সালমা খাতুন (৩৮)১০। করুণা খাতুন (৩২)
সকলেই সাং—ইসলামপুর, থানা—কয়রা, জেলা—খুলনা।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা বাদীর কাছে পুনরায় ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বাদী কারণ জানতে চাইলে ১নং আসামি লোহার রড দিয়ে তাকে আঘাত করে। এ সময় অন্যান্য আসামিরাও এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। বাধা দিতে গেলে বাদীর স্ত্রী, মা ও অন্যান্য স্বজনদেরও মারধর করা হয়। এতে একাধিক ব্যক্তি আহত হন।এছাড়া অভিযুক্তরা দোকানের ক্যাশবাক্স ভেঙে নগদ প্রায় ৩০,০০০/- টাকা নিয়ে যায় এবং দোকানে ভাঙচুর করে আনুমানিক ৫০,০০০/- টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার সময় হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাদী কয়রা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলা রুজু করে। মামলাটি দণ্ডবিধির
১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৮০/৪২৭/৫০৬ ধারায় গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন