
লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় একটি পণ্যবাহী জাহাজের চার নাবিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় উদ্ধারকাজে যাওয়া ইয়েমেনের দুই উদ্ধারকর্মীও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ড। খবর রয়টার্সের।
বুধবার (১২ আগস্ট) ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার শিকার জাহাজটির নাম টিহামাহ। এটি মিসরের মালিকানাধীন। নিহত চার নাবিকের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক। হামলার পর জাহাজটির ক্রুরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি নিশ্চিত হলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজে হুথিদের হামলায় এটিই হবে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।
পরে হুথিরাও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে তারা জাহাজটির নাম প্রকাশ করেনি। গোষ্ঠীটির দাবি, জাহাজটিতে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল।
ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, মঙ্গলবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে একটি জাহাজ অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
জাহাজটির ডেক ও মাস্তুলের আকৃতি, ঘটনাস্থলের ছবি এবং স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স এটিকে টিহামাহ হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্যেও দেখা গেছে, ১১ আগস্ট ইয়েমেনের মুরাদ এলাকার কাছে অবস্থান করছিল টিহামাহ। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রিও জানিয়েছে, ওই দিনই জাহাজটিতে হামলা হয়েছিল।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হামলায় তিন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইয়েমেনের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর হুথিরা আবার হামলা চালায়। এ সময় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দুই সদস্য নিহত হন।
হামলায় মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে জাহাজটির সাতজন ক্রু, কোস্টগার্ডের দুই সদস্য এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের একজন সদস্য রয়েছেন।
গত ২০ জুলাই লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে হুথিরা। গোষ্ঠীটির দাবি, ইয়েমেনে সৌদি অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে রিয়াদ ইয়েমেনে কোনো ধরনের অবরোধ আরোপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হুথিদের হামলার প্রথম দফার পর এই পথে জাহাজ চলাচল অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়। গত মাসে হুথিদের অবরোধ ঘোষণার পর জাহাজ চলাচল আরও কমেছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, গত সপ্তাহে বাব আল-মান্দেব দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩২টি জাহাজ চলাচল করেছে। অবরোধ ঘোষণার আগে এই সংখ্যা ছিল দিনে প্রায় ৫০টি।
ইরানের উপকূলীয় হরমুজ প্রণালিতেও পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সোমবার সেখানে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথে প্রতিদিন প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন