
বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। দুই দেশের প্রথম পররাষ্ট্র অফিস পরামর্শ (এফওসি) বৈঠকে শ্রম সহযোগিতা ও জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে লাওসে বাংলাদেশ ও লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের (লাও পিডিআর) মধ্যে প্রথম পররাষ্ট্র অফিস পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আনুপার্ব ভংনরকেও নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে লাওসের কাছে দ্রুত জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পাঠানো হবে। একই সঙ্গে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রম সহযোগিতা বিষয়ক এমওইউ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ইকো-ট্যুরিজম, কনস্যুলার সহযোগিতা ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি এমওইউ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। তরুণ কূটনীতিক বিনিময়, পর্যটন সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের কৌশল নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বৈঠকে সাধারণ পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। লাও পক্ষ এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করাও ছিল বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্ভাবনার তুলনায় কম হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয় উভয় পক্ষ।
ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো, বিশেষ করে দুই দেশের জাতীয় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় জোরদারের বিষয়েও সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও লাওস। বাংলাদেশের ওষুধ ও কৃষিপণ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে লাও পিডিআর।
আন্তর্জাতিক ফোরামে বিভিন্ন ইস্যুতে লাও পিডিআরের সহযোগিতার প্রশংসা করে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনে লাওসের অব্যাহত সমর্থন কামনা করা হয়।
বাংলাদেশের আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এর সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতিও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে লাও পিডিআর।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়ও দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন কৌশল নিয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।
বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও লাও পিডিআরের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা একটি ফলাফল দলিলে স্বাক্ষর করেন। পরে লাও পিডিআরের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব ও প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত অভ্যর্থনা নৈশভোজে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
মন্তব্য করুন