
তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে বিমান বদলের ঘটনা নতুন করে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অতীতের ঝুঁকিপূর্ণ ও গোপন সফরের বিষয়গুলো সামনে এনেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্টদের গোপন সফর নতুন কোনো ঘটনা নয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এসব সফরের তথ্য আগে থেকে খুব সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা ও সাংবাদিককে জানানো হয়। তাদেরও বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে গত ৮ জুলাই তুরস্ক থেকে ফেরার পথে ট্রাম্পের বিমান বদলের ঘটনা ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কায় তাকে নিয়মিত এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে অন্য একটি সরকারি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়াল ব্যবহার করে বিমান বদলের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।
ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সাংবাদিকদের অধিকাংশই এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা যে বিমানে ছিলেন, সেটি মূলত একটি বিভ্রান্তিমূলক বা ‘ডিকয়’ বিমান হিসেবে রাখা হয়েছিল।
এর আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নিরাপত্তার কারণে গোপনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সফর করেছেন। ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ থ্যাংকসগিভিংয়ের দিন ইরাকের বাগদাদে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে গোপনে সফর করেন। নিরাপত্তার জন্য বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখা হয়। এমনকি সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইসও সাময়িকভাবে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত থেকে পাকিস্তান যাওয়ার সময় নির্ধারিত বিমানের পরিবর্তে একটি ছোট সামরিক বিমানে গোপনে ইসলামাবাদে পৌঁছান।
২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটিতে আকস্মিক সফর করেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে সফরটির প্রস্তুতি গোপনে চললেও তিনি সেখানে পৌঁছানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এ ছাড়া ২০১৮ সালের বড়দিনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে আকস্মিক সফর করেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটিই ছিল কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ট্রাম্পের প্রথম সফর।
মন্তব্য করুন