গোপালগঞ্জে যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শ্বশুর কুদ্দুস শেখকে হত্যার দায়ে জামাতা রফিকুল ওরফে রফিক সরদার (২৬)-কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে গোপালগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ শামছুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তাকে সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল সরদার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বেথুড়ী ইউনিয়নের জোৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রফিকুল সরদার ২০২৩ সালের ২২ মার্চ কুদ্দুস শেখের মেয়ে নিলুফা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালান তিনি। এ ঘটনায় নিলুফা বেগম ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যৌতুক নিরোধ আইনে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার জেরে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর আপোষের কথা বলে শ্বশুরবাড়িতে যান রফিকুল। সেখানে উত্তেজনার একপর্যায়ে শ্বশুর কুদ্দুস শেখ যৌতুক ছাড়াই মেয়েকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
এরপর পরিকল্পিতভাবে ৫ নভেম্বর ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার পথে কুদ্দুস শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাহেলা বেগম কাশিয়ানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন