পারভেজ হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৪১৩ জন

পীরগঞ্জে বাসর ঘরে বউ বদল, প্রতিবাদ করাই ছেলের নামে মামলা

৫০১

ঠাকুরগাঁওয়ের একটি বিয়েকে ঘিরে অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হয়েছে। বিয়ের পরপরই বাসর রাতে ‘কনে বদল’ করা হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বরকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় বিষয়টি জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার যুবক রায়হান কবির ঘটকের মাধ্যমে রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব পান। উভয় পরিবার সম্মতি দেওয়ার পর গত আগস্ট মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর নববধূকে নিয়ে গভীর রাতে নিজ বাড়িতে ফেরেন।

বরপক্ষের অভিযোগ, বাসর রাতে কনের অতিরিক্ত সাজসজ্জা ধুয়ে যাওয়ার পর বর বুঝতে পারেন—বিয়ের আগে যে মেয়েকে দেখানো হয়েছিল, বাসর ঘরে থাকা কনে তিনি নন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরদিন কনেকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে পাঠানো হয়। এরপর স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

ঘটনার জেরে গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক ছেলেপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর পাল্টা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেন।

মামলাগুলো বিচারাধীন থাকাকালে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত বর রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ফলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বরের মামা দাবি করেন, ঘটকের মাধ্যমে যে পাত্রী দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে কনে ছিলেন ভিন্ন একজন। দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করার চাপ থাকায় নতুন করে পাত্রী যাচাইয়ের সুযোগ পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছেলেপক্ষ তাদের বাড়িতে এসে তার মেয়েকেই দেখে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিয়ের পর ছেলেপক্ষের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। সময় চাওয়ায় সমঝোতা নষ্ট হয়ে যায়।
ঘটক মোতালেব জানান, তিনি কোনো ধরনের কনে বদলের সঙ্গে জড়িত নন এবং পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

ছেলেপক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদঘাটিত হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে জেলাজুড়ে কেউ এটিকে প্রতারণার ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে যৌতুক–সংক্রান্ত বিরোধের আইনি পরিণতি বলে মনে করছেন। এখন সবার অপেক্ষা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক

১

বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ, উচ্ছ্বসিত ট্রাম্প

২

রিজভীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রচার, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান বিএনপির

৩

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করায় সমমনা জোটের অভিনন্দন

৪

বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

৫

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৫১২, বিপুল মাদক উদ্ধার

৬

করাচিতে স্বাধীনতা দিবসের গুলিবর্ষণে নিহত ১, আহত ৯৪

৭

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত

৮

১০ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

৯

বহু বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে যোগ্য ব্যক্তি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল

১০

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে লাওস, এফওসিতে আলোচনা

১১

নরসিংদীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৩৮

১২

শাহবাগে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করল ডিএসসিসি

১৩

মাদারীপুরের রাজৈরে এসএসসিতে ফেল করে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

১৪

সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমানোর উদ্যোগ সরকারের

১৫

টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ, কারা পাবেন আর কারা থাকছেন বাইরে

১৬

ছয় অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

১৭

রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বঙ্গভবনের দৌড়ে মির্জা ফখরুল

১৮

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা

১৯

র‌্যাগিংয়ে পবিপ্রবি শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

২০