
মাদারীপুরের মোস্তফাপুরে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পরিবর্তিত হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের স্বভাব-চরিত্র ও আচরণের পরিবর্তন না হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণ ভোটের মাধ্যমে তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
জনগণ আর ‘খবরদারির রাজনীতি’ চায় না
শুক্রবার দুপুরে মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুরে আয়োজিত এই সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন আর কারো খবরদারি বা লাঠিয়াল বাহিনীর রাজনীতি দেখতে চায় না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন:
“গণপ্রতিরোধের মাধ্যমে এদেশের মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। ভোটের এই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। তাই নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। যদি স্বভাব-চরিত্র ও আচরণে পরিবর্তন না আসে, তবে স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”
সরকারের লক্ষ্য: মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য ও আদর্শ তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন মর্যাদা এবং পূর্ণ অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে বাস করতে পারে—এটাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও যোগ করেন, দেশে আইনের শাসন এমনভাবে নিশ্চিত করা হবে যাতে দল-মত নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ এবং বিচার পায়।
তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রমগুলো প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতায় স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে কোনো প্রকৃত সুবিধাভোগী বাদ না পড়ে।
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব
পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুর তার বক্তব্যে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন:
খাল খনন কর্মসূচি: বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে প্রতিটি উপজেলায় নতুন করে খাল খননের তালিকা চেয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড: কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়।
উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সাংগঠনিক তৎপরতা
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মোস্তফাপুরে পৌঁছালে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্লোগানে বরণ করে নেন। পথসভাটি বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা মূলত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনার একটি প্রচেষ্টা।
সভা শেষে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সরকারি প্রকল্পগুলোর দ্রুত ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন