
ঠাকুরগাঁও জেলার গোগর গ্রাম-এর ঢাকাডাঙ্গী গোরস্থান থেকে রাতের আঁধারে কবর খুঁড়ে ৮টি কঙ্কাল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে স্থানীয় তরিকুল ইসলাম তার মরহুম বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কবরের মাটি খোঁড়া ও ভেতর ফাঁকা দেখতে পান, এরপরে আশপাশের আরও কয়েকটি কবর পরীক্ষা করে একই চিত্র পাওয়া যায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সংঘবদ্ধ কঙ্কাল চোরচক্রের সুপরিকল্পিত তৎপরতা। তারা বলছেন, “কবরেও নিরাপত্তা নেই—এ কেমন পরিস্থিতি?”
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়েও একই গোরস্থান থেকে ১০/১১টি কঙ্কাল চুরি হয়েছিল। সেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন তো দূরের কথা, কাউকে দৃশ্যমানভাবে আইনের আওতায় আনা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে পুরোনো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।
এলাকাবাসী বলছেন, কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি কেবল ফৌজদারি অপরাধই নয়, এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত। তারা দ্রুত তদন্ত, গোরস্থানে নিরাপত্তা জোরদার, রাত্রীকালীন টহল বৃদ্ধি এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একই গোরস্থানে বারবার কঙ্কাল চুরি, তবুও কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়?
কবরের মাটিও যখন নিরাপদ নয়, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কোথায়—এ প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো এলাকায়।
মন্তব্য করুন