
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার ২৫৯টি আসনে নির্বাচন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের বাছাইপর্ব শেষে এবং পারস্পরিক সম্মানে কিছু আসনে প্রার্থী প্রত্যাহার শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচন করবে।
এর আগে, ১৬ জানুয়ারি বিকেলে দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী’র অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী সমঝোতায় নেই। তিনি বলেন, “যে ২৬৮টি আসনে আমাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়েছে, সেগুলোতে আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেব। একজনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। বাকি ৩২ আসনে আমরা আদর্শিক বিবেচনায় প্রার্থীকে সমর্থন প্রদান করব।”
দলের মুখপাত্র আরও বলেন, জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে, শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন না করে প্রচলিত আইনে দেশ শাসন করবে, যা দেশের বর্তমান দুর্দশার মূল কারণ হিসেবে বিদ্যমান আইনকে উল্লেখ করেছেন। তিনি যোগ করেন, “আমাদের রাজনীতি নীতির ওপর ভিত্তি করে, তাই মৌলিক নীতিতে ভিন্নমতের কারণে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় থাকা সম্ভব নয়।”
ইসলামী আন্দোলন কেন ১১ দলের আসন সমঝোতা থেকে সরে এসেছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতের নেতৃত্ব বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এটি দলের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে এবং আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে নির্বাচনে আদর্শিক লক্ষ্য পূরণ হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জামায়াতে ইসলামী’র পুরোনো স্লোগান ছিল—‘আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই’। ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা আসার পর তারা আল্লাহর আইনের থেকে সরে গেছে এবং ক্ষমতাকে প্রধান হিসেবে বিবেচনা করছে।”
মন্তব্য করুন