
সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া দাবি করেছেন, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি জঙ্গি তালিকা প্রস্তুত করে ডিজিএফআইয়ের কাছে সরবরাহ করতেন। তিনি জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ‘র’-এর ওই ব্যক্তিরা নিয়মিতভাবে ডিজিএফআই কার্যালয়ে যাতায়াত করতেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ডিজিএফআই ভবনের সাতটি মিটিং রুমের মধ্যে একটি কক্ষ তাদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল, যেখানে তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ইকবাল করিম ভূঁইয়া র্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তির দাবিও জানান। তিনি বলেন, র্যাব অবিলম্বে বিলুপ্ত করা উচিত। তা সম্ভব না হলে র্যাবে নিয়োজিত সামরিক সদস্যদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা দরকার। তার ভাষায়, ‘আয়নাঘর’-এর মতো অপসংস্কৃতির জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে ডিজিএফআই তার নৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা হারিয়েছে।
র্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্থাটির মাধ্যমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল ভয়াবহ ও অমানবিক। তার দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মরদেহ বিকৃত করে ইট-পাথরের সঙ্গে বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, অনেকেই মনে করেন তিনি সেনাবাহিনীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তার মতে, বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই—সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে এবং আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ এসেছে, তা হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।
উল্লেখ্য, জিয়াউল আহসানের গুম সংক্রান্ত মামলায় দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। মামলাটির পরবর্তী জেরা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন