
দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি। তিনি বলেছেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের অঙ্গীকার।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত দেশের আরও ১২টি জেলায় ডিজিটাল ‘ই-বেইলবন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থার চতুর্থ ধাপের ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা দেশের নাগরিকদের আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে দেখতে চাই না। বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের মূল অঙ্গীকার।”
আইনমন্ত্রী জানান, আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছানো এবং আসামির মুক্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ১২টি জটিল ধাপ অতিক্রম করতে হতো। বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারে আইনজীবীরা নিজেদের চেম্বার বা যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকেই ই-বেইলবন্ড দাখিল করতে পারছেন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিবান্ধব বিচার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রথমে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে তিন ধাপে ১৬টি জেলায় চালু হওয়া ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডিজিটাল জামিননামা সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে।
নতুন করে আরও ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে দেশের ২৮টি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু হলো। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেক কমবে। বিশেষ করে জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের মুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।”
মামলাজট কমানোর বিষয়ে আইনমন্ত্রী বিচারক ও আইনজীবী নেতাদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কারাগারে থাকা আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর ছোট মামলা ঝুলে থাকলে সরকারের অর্থ ও সময়ের অপচয় হয়। একই সঙ্গে বড় অপরাধের মামলাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মামলার সংখ্যা কমাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মামলা কমাতে সক্ষম হবে, তাদের আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।
এ সময় পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন