আলোকিত জনপদ ডেস্ক
৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৬১১ জন

মামলাজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

মামলাজট হ্রাসে ভূমিকা রাখবে
৭১০

সরকার জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা বিলুপ্ত করে তার স্থলে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন দ্বিতীয় দফায় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এটি চূড়ান্ত হবে। প্রধান লক্ষ্য, দেশের সব নাগরিক যেন আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। এই উদ্যোগের সফলতা কামনা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০০০ সালে আর্থিক সংকটের প্রেক্ষিতে নাগরিকদের আইনের আশ্রয় পাওয়ার সমতা নিশ্চিত করতে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। ২০০৯ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী বিনামূল্যে আইনি সেবা পেয়েছেন। এই সেবা প্রদান করা হয় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, দেশের ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা ও চট্টগ্রামের শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং জাতীয় হেল্পলাইন (‘১৬৪৩০’) এর মাধ্যমে। জেলা লিগ্যাল অফিসগুলো এই সময়ে ২.৫ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ আদায় করেছেন।

আইনের ২১ক ধারার অধীনে লিগ্যাল এইড অফিসাররা আদালতের বাইরে বিরোধের মধ্যস্থতা ও আইনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। দুপক্ষের সম্মতি ও সমঝোয়ার মাধ্যমে মধ্যস্থতা চুক্তি সম্পন্ন হয়, যা সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় করে। গত ১ জুলাই এই প্রক্রিয়ার প্রসার ঘটাতে নয়টি আইনে (৫ দেওয়ানি, ৪ ফৌজদারি) সংশোধনী অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, এবং প্রতিনিয়ত নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। বিচারকের সংখ্যা মামলার তুলনায় খুব কম। এই পরিস্থিতিতে যেসব বিরোধ আপসযোগ্য এবং দ্রুত সমাধানযোগ্য, সেগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করলে নাগরিক উপকৃত হবেন এবং রাষ্ট্রের খরচও কমবে।

আমরা মনে করি, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রের কাছ থেকে সহজ ও সাশ্রয়ে সেবা প্রাপ্তির। সরকারি উদ্যোগে আইনি সহায়তা এই অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিচার ব্যবস্থায় জনবান্ধবতা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, ভোগান্তি ও শঙ্কা বিরাজমান। এই বিকল্প উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জন্য আইনি সেবাপ্রাপ্তি আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা সম্ভব, যা জনমুখী বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

১

এনআইডি সংশোধনের আড়ালে জালিয়াতি, কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন

২

‘আদর্শ স্বামী’র প্রতীক আবু বকর, শেহরিয়ার মুনাওয়ারকে নিয়ে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

৩

গোপালগঞ্জের নিজড়া ইউপিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার আকিবুল ইসলাম, জনসম্পৃক্ততায় বাড়ছে আলোচনা

৪

নৈরাজ্য সৃষ্টিতে বিরোধীদলের মৌন সমর্থন আছে: রাশেদ খাঁন

৫

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৬

আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ: প্রধানমন্ত্রী

৭

শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার চেষ্টা, নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্য গ্রেপ্তার

৮

সীমান্তের ওপারের ইন্ধনে পোশাক শিল্পে অস্থিরতা, দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

৯

শ্রমিক অসন্তোষে ৫২৯ পোশাক কারখানায় ছুটি, কাজ ছাড়লেন প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক

১০

গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৪

১১

শিবপুরে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

১২

গোপালগঞ্জে নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবসের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শুরু

১৩

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় আটক ৫০৫

১৪

জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক

১৫

বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ, উচ্ছ্বসিত ট্রাম্প

১৬

রিজভীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রচার, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান বিএনপির

১৭

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করায় সমমনা জোটের অভিনন্দন

১৮

বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

১৯

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৫১২, বিপুল মাদক উদ্ধার

২০