ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ “স্বচ্ছতা”-তে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও গোপালগঞ্জ পৌর প্রশাসক এস. এম. তারেক সুলতান।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ নিজেরাই দৈনন্দিন কাজ ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক সময় সামাজিক সংকোচের কারণে মানুষ নিজ হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে এগিয়ে আসেন না। অথচ গ্রামাঞ্চলে প্রবীণদের দেখা যায় অবসর সময়েও বাড়ির উঠান বা আশপাশ পরিষ্কার রাখেন। মূলত কোনো কাজই ছোট নয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রতি শনিবার জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। সীমিত বাজেটের কারণে এ কার্যক্রমে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ জেলায় মোট ৪টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদে পর্যায়ক্রমে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালু রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা তথ্য অফিসের বাস্তবায়নে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে শনিবার থেকেই বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় মাইকিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) অনিরুদ্ধ দেব রায়-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় ডিজিটাল উপস্থাপনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিহাব ইসলাম। এ সময় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে স্বাস্থ্যবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. দিবাকর বিশ্বাস।
মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম রকিবুল ইসলাম। জনসচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রচার কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান যমুনা টিভির স্টাফ রিপোর্টার মোজাম্মেল হোসেন মুন্না।
এ সময় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারদীন খান প্রিন্স, এ কে এম ফয়জুল বারী, মো. নাজমুল হক স্বপন, মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ, মো. রাশেদুল আলম, পৌর প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী মাহফুজুর রহমান লাবলু, কনজারভেন্সি পরিদর্শক ইমরান আলী মোল্যাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বাড়ি-ঘর, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবসময় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাড়ির উঠান, ড্রেন ও আশপাশে যেন কোথাও পানি জমে না থাকে সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. তারেক সুলতান নিজ হাতে শহরের হেলিপ্যাড ও পৌর কবরস্থান সংলগ্ন জলাশয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রমেরও সূচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন