
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা-এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকাশ্যে হুমকি এবং উৎকোচ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাচোর ইউনিয়ন-এর বক্সা সুন্দরপুর গ্রামে ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, বরাদ্দ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ইউপি সদস্যকে উদ্দেশ করে পিআইও কড়া ভাষায় হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যানসহ গাড়ে (পুঁতে) দিব সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে।” এছাড়াও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পদ বাতিল ও জেলে পাঠানোর হুমকিও দিতে শোনা যায় তাকে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মো. আক্কাশ আলী অভিযোগ করেন, টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির আওতায় পাওয়া প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রকাশ্যে অপমান ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পর রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের অর্থ বণ্টন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি। তবে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। ইউনিয়নবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি প্রকাশ্যে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এ ধরনের হুমকি দিতে পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অধিকার কতটা সুরক্ষিত? সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এলাকায়।
অভিযুক্ত পিআইও’র বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এখন নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না—তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
মন্তব্য করুন