
রামপালে নিরিহ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া চেকের পৃষ্ঠায় টাকা পাওনা দাবি করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তিনি ভিতরস্থ হয়ে পড়েছেন। উপায়ন্তর না পেয়ে আইনের শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
যানা গেছে, রামপাল সদর ইউনিয়নের ভাগা গ্রামের ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের ছেলে কৃষ্ণপদ বিশ্বাস দীর্ঘকাল আগে উপজেলার কিসমত ঝনঝনিয়ার মৃত আ: সত্তারের ছেলে শরিফুল ইসলামের সাথে যৌথ ইলেকট্রনিকসের ব্যাবসা করতেন। যেকারণে ব্যাবসাইক লেনদেনের সুবাদে একে-অপরের বাড়ি আসা-যাওয়ার হতো এবং এক পর্যায়ে পারিবারিক সম্পর্কে পরিণত হয়।
সেই সুবাদে ব্যবসাই পার্টনার শরিফুল ইসলামের শালিকা শারমিন আক্তার (রুমা)র ঢাকার মিরপুর বাসায়ও আসা যাওয়া হতো। যৌথ শোরুম ব্যবসা পরিচালনাকালে ভুক্তভোগী কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের নিজনামের অগ্রণী ব্যাংক ভাগা বাজার শাখার হিসাব নং – ০২০০০০২৮৯৯৭৯৯ হইতে 01B ১৭৭৯৪২২ নাম্বারের স্বাক্ষরবিহীন একটি চেকের পৃষ্ঠা হারিয়ে যায়।

ধারণা করা হচ্ছে ওইসময় সুকৌশলে হয়তো কেউ আত্মসাৎ করেছে। যা পরবর্তীতে ২৬ লক্ষ পাওনা টাকা দাবি করে ঢাকা কোতোয়ালি থানার এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক উজ্জ্বল স্বাক্ষরিত ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয় ভুক্তভোগী কৃষ্ণপদ বিশ্বাসকে।
ওই লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়, বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানার নলবুনিয়া গ্রামের মো: আ: আজিজ মাঝির ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেন ব্যবসায়িক পার্টনার হওয়ায় কাজের সুবাদে ২০২৫ সালের ৩ আগষ্ট পাথর ক্রয়ের জন্য অগ্রীম ২৬ লক্ষ টাকা প্রদন করেন কৃষ্ণপদ বিশ্বাসকে কিন্তু সময় মতো সেই পাথর সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন তিনি।

উল্লেখিত পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখান। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ লক্ষ্যে একটি চেক দেন যার নং- 01B১৭৭৯৪২২ এমনটাই দাবি করা হয় ওই লিগ্যাল নোটিশে। টাকা উত্তোলনের জন্য দেলোয়ার হোসেন অগ্রণী ব্যাংক ভাগা শাখায় গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, ওই একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই এবং প্রদত্ব চেকের পৃষ্ঠায় একাউন্ট মালিকের স্বাক্ষর মিল নেই মর্মে চেকটি ডিজঅনার করেন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষ্ণপদ বিশ্বাস প্রতিকার চেয়ে গত ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ সালে বাগেরহাটের জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট নিখিল রঞ্জন দাস কর্তৃক জারিকৃত লিগ্যাল নোটিশের জবাব দেন। সেই জবাবে জানানো হয়, মো: দেলোয়ার হোসেন কোনোকালেই ভুক্তভোগী কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের পরিচিত নয় এবং ব্যবসাইক পার্টনারও নয়। যেকারণে ২৬ লক্ষ টাকার চেক দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না তাকে।
যড়যন্ত্র করে কেউ চেকের পৃষ্ঠাটি ছিড়িয়া আত্মসাৎ করেছে যা পরবর্তীতে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে রামপাল থানায় একটি চেকের পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে মর্মে হারানো জিডি করেছেন যার নং- ৩১২। এই ঘটনায় অসহায় পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে এমন হয়রানি করার জন্য। ভবিষ্যতে নিরাপত্তাসহ সুষ্ঠু জীবনযাপনের সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
মন্তব্য করুন