বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা। তার অনুসারীদের দাবি, বহু বছর আগে দেওয়া তার একাধিক ভবিষ্যদ্বাণীতে ২০২৬ সালকে যুদ্ধ ও ধ্বংসের বছর হিসেবে সতর্ক করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাবা ভাঙ্গা নাকি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন— ২০২৬ সালে বড় শক্তিগুলোর সংঘাত থেকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক মানবিক সংকটের কথাও উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের অবনতি এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংকট— এসব ঘটনাকে বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
টিকটক, এক্স (টুইটার) ও ইউটিউবে এ নিয়ে অসংখ্য ভিডিও ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়েছে।
বাবা ভাঙ্গার প্রকৃত নাম ভ্যাঞ্জেলিয়া পান্ডেভা গুশতেরোভা। তিনি ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারান। তার অনুসারীদের বিশ্বাস, দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর থেকেই তিনি ভবিষ্যৎ দেখার অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন করেন।
তিনি ১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে মারা যান।
অনেকে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু এবং চীনের উত্থান— এসব ঘটনার আভাস বাবা ভাঙ্গা আগেই দিয়েছিলেন। তবে বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে, তার কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা প্রামাণ্য প্রমাণ নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও সংকটের সময় মানুষ ভবিষ্যৎ জানার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে। সে কারণেই এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে এগুলোকে নিশ্চিত যুদ্ধ বা ধ্বংসের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যুক্তিসংগত নয়।
সূত্র: গালফ নিউজ
মন্তব্য করুন