রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রস্তাবিত বাজেটে জনগণের জীবনযাত্রার উন্নয়নে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে মৌলভীবাজারে বন্যায় ৪৫০টি গ্রাম প্লাবিত: খোলা হয়েছে ৯৮টি আশ্রয় কেন্দ্র সুনামগঞ্জ জেলার বন্যা উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রংপুরের বাজারে উঠতে শুরু করেছে সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম মাদারীপুরে ডিবি পুলিশের জালে ৫৫০ পিচ ইয়াবা সহ আটক ৩ জন ফরিদপুরে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে আটক ঈদে ঘরমুখো মানুষের হয়রানী ও টিকেট কালোবাজারী বন্ধে পুলিশ ও র‌্যাবের সাব-কন্ট্রোল রুম চালু চাঁপাইনবাবগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল নড়াইলে মোটরসাইকেল-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে স্কুলছাত্র নিহত আরোহী গুরুতর আহত ফরিদপুরে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ে আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২
  • ১৮৯ Time View

দেশের উত্তরের কৃষি নির্ভর জনপদ ঠাকুরগাঁও। বোরোর পর আমন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কৃষকেরা ও কৃষি শ্রমিকেরা। কিছুদিন আগেও পানির অভাবে কৃষকেরা চারা রোপণ করতে পারছিলেন না। গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির ফলে আমনের ক্ষেতে পানি জমেছে। দীর্ঘদিন পানির অভাব থাকলেও এখন বর্ষার পানিতে তারা নতুন করে আমনে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে উচু কৃষি জমিতে পানি জমায় কৃষকের মনে স্বস্তি এসেছে। ফলে পুনরায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এতে কৃষি ও কৃষকদের মাঝে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, চলতি বছর বছর জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৬৪০ হেক্টর। যাতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭১৬ টন। যা গত বছরে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৫ হেক্টর। এর মধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫০ টন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন, গড়েয়া, বেগুনবাড়ি, খোঁচাবাড়ি, দানারহাট, বরুনাগাঁও, শিবগঞ্জ, রহিমানপুর, জামালপুরসহ সর্বত্র এবং অন্যান্য উপজেলা যেমন-বালিয়াডাঙ্গী রাণীশংকৈল, পীরগঞ্জ ও হরিপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় কৃষকেরা আমনের চারা রোপণ ও কেউ কেউ ক্ষেত পরিচর্যা করছেন।
সদর উপজেলার নারগুন এলাকার কৃষক মো. কামাল হোসেন জানান, প্রত্যেক বছরের মত এবছর তিনি ৩ একর জমিতে আমন ধান লাগানো শুরু করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পানি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। অবশেষে গত বেশ কয়েকদিনের টানা বর্ষনের ফলে তার উচু জমিগুলোতেও বৃষ্টির পানি জমায় তিনি দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছেন। সদর উপজেলার আউলিয়াপুর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর আড়াই একর (২৫০ শতক) জমিতে আমন ধান লাগিয়েছেন। বৃষ্টির পানির অভাবে তার আমনের ক্ষেত শুকিয়ে যাওয়ায় তার দুশ্চিন্তার যেন শেষ ছিল না। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তার আমনের ক্ষেতেও পর্যান্ত পানি জমেছে। এখন তিনি তার লোকজন ও কামলাদের তিনি ধান লাগাচ্ছেন। এসময় নাওয়া খাওয়া ভুলে ধান লাগাচ্ছেন কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা। যেন দম ফেলারও ফুরসত নেই তাদের। অন্যদিকে যারা ধান লাগিয়ে ফেলেছেন, তারা ধানের ক্ষেত পরিস্কার ও পরিচর্যা নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আরেক কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, তিনি এ বছর ৩ একর জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। ধান লাগানো শেষ হলেও ধানের ক্ষেত্রের পানি সরবরাহ, ক্ষেত পরিস্কার, পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। একই কথা বললেন জেলার হরিপুর উপজেলার কামারপুর গ্রামের কৃষক আরমান আলী।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ রায় জানান, প্রথম দিকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় একটু অসুবিধে হলেও এখন ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পুরোদমে কৃষকরা আমন চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সদর উপজেলা প্রায় সবকটি ইউনিয়নেই আমন রোপণ চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে। যদিও কৃষকরা আগেই জমি ও বীজতলা তৈরী করে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আর সরকারের কৃষি বান্ধব পলিসি হওয়ায় বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, তবে পানির অভাবে প্রথম দিকে সামান্য সমস্যা হলেও বেশ কিছুদিনের টানা বর্ষনের ফলে উচু-নিচু আমন ক্ষেতে পানি জমেছে। তাই কৃষকেরা পুনরায় আমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত ২২-২৭ জুলাই পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১২০-২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বর্ষার বৃষ্টির পর কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছেন কৃষকের মাঠে। আর তাছাড়া এ জেলায় অন্যান্য ফসলের মতো ধানের জন্যও বিখ্যাত। প্রচুর পরিমানে ধান এ জেলায় উৎপাদন হয়। প্রত্যেক বছর আমন মৌসুমে কৃষকদের যাবতীয় পরামর্শ ও সেবা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রদান করা হয়। এ বছরও দেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ধান উৎপাদন হবে এবং কৃষকেরা এ বছরও ধানের ন্যয্য মুল্য পাবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি । খাদ্য উদ্বৃত্ত হিসেবে পরিচিত ঠাকুরগাঁও জেলা। এছাড়া আবহাওয়া ভাল থাকলে আমনের বাম্পার ফলন হবে এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে এ জেলা থেকে খাদ্য নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে সরবরাহ করা সম্ভব হবে এবং বাজার ভালো থাকায় ভালো দাম পাবেন আমনের কৃষকরা বলেও আশা প্রকাশ করেন এ কৃষিবিদ।

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category