রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর
১৮ মার্চ ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১৫৬ জন

গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী গরুর হাটে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ, নীরব প্রশাসন

গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী গরুর হাটে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ, নীরব প্রশাসন
১৭৯

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইজারাদারের বিরুদ্ধে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি শর্ত অনুযায়ী হাটে বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও বাস্তবে তাদের কাছ থেকেই জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হচ্ছে। গরু কেনার ক্ষেত্রে রশিদে ৬০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৭০০ টাকা। পাশাপাশি বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাগল ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী শুধু ক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত ফি নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি লেনদেনে প্রায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ অনিয়মের বাইরে নন। হাঁস-মুরগি বিক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি পিসে ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাটে সরকারি নির্ধারিত ফি তালিকা প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোথাও তা টানানো হয়নি। ফলে প্রকৃত ফি সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকায় সাধারণ মানুষ সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে হাঁস-মুরগি বিক্রি এবং পরিষদের কক্ষ হাট অফিস হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী।

হাটে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন রশিদ লেখক জানান, তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না; ইজারাদারের নির্দেশেই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।

ক্ষুব্ধ বিক্রেতা মুকুল মিয়া বলেন, “সরকার চাঁদাবাজি বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। আমরা কষ্ট করে গরু এনে বিক্রি করি, কিন্তু এখানে এসে জোর করে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে ভয় দেখানো হয়। এটি প্রকাশ্য অন্যায়, আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

আরেক বিক্রেতা লাভলু মিয়া জানান, গরুপ্রতি ৭০০ টাকা এবং বিক্রেতাদের কাছ থেকেও ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

ধনতোলা এলাকা থেকে আসা ক্রেতা বাচ্চা মিয়া বলেন, “প্রতিবাদ করলেই ভয় দেখানো হয়। প্রশাসন পাশে না দাঁড়ালে আমরা কোথায় যাবো?”

এ বিষয়ে ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা স্বপন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইফতারের পরে আসেন, তখন কথা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রিজভীর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রচার, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান বিএনপির

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করায় সমমনা জোটের অভিনন্দন

বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৫১২, বিপুল মাদক উদ্ধার

করাচিতে স্বাধীনতা দিবসের গুলিবর্ষণে নিহত ১, আহত ৯৪

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত

১০ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

বহু বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে যোগ্য ব্যক্তি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে লাওস, এফওসিতে আলোচনা

নরসিংদীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৩৮

১০

শাহবাগে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করল ডিএসসিসি

১১

মাদারীপুরের রাজৈরে এসএসসিতে ফেল করে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

১২

সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমানোর উদ্যোগ সরকারের

১৩

টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ, কারা পাবেন আর কারা থাকছেন বাইরে

১৪

ছয় অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

১৫

রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বঙ্গভবনের দৌড়ে মির্জা ফখরুল

১৬

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা

১৭

র‌্যাগিংয়ে পবিপ্রবি শিক্ষার্থী অসুস্থ, তদন্ত কমিটি গঠন

১৮

গ্যাসের মজুত ২০৩১ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার আশঙ্কা: সিপিডি

১৯

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী

২০