
নরসিংদী জেলার প্রকৃত গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধাদের থেকেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা তিনগুন বেড়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন না করেও যারা মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে অন্তর্বর্তী সরকার এটাই আশা করছে জেলার প্রকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধারা। নরসিংদী জেলার মধ্যে প্রায় বৈধ বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা আনুমানিক নয়শত, এর বিপরীতে প্রায় ১৫০০ এর বেশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সয়লাব হয়েছ।
গেজেটভুক্ত ভারতীয় লালবইয়ে নিবন্ধিত জেলার ২জন বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসমত উল্লাহ রতন ও শাহজান মিয়া প্রতিবেদক কে স্বাক্ষাৎকারে অভিযোগ করে বলেন- নরসিংদী জেলাতে তৎকালীন স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করেছিল। সে সুবাধে এখনো পর্যন্ত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের দেওয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র দিয়ে নিজেকে প্রকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে আসছেন। অথচ প্রকৃত যোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায় ভুয়াদের কে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে দেখা যায়নি এমনকি ভারতীয় লাল বইয়তেও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত নেই।
নরসিংদী বেলাবো উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের নিলক্ষীয়া গ্রামের গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসমত উল্লাহ রতন বাংলা এডিশনকে বলেন- আমাদের নিলক্ষীয়া গ্রামে প্রকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা রয়েছে ১৭জন, অন্য দিকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে প্রায় ২০জন। নিলক্ষীয়া গ্রামের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুল হক, আবুল বাশার, আক্তারুজ্জামান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মোস্তফা কাদেরসহ অনেকে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে সরকারি সুযোগ সুবিধা অর্জণ করেছে।
এমনকি এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারাকে বাড়ি করার জন্য সরকার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধারা বলেন, অত্র বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহীকে অবগত করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে জানান গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধারা।
এদিকে জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসাইন বাংলা এডিশনকে জানান-কোন বীরমুক্তিযোদ্ধা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে অভিযোগ করেননি। বর্তমান সরকার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। তবে জেলা প্রশাসক দায়সারা জবাব দিয়েছেন বাংলা এডিশনের প্রতিবেদককে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধা হওয়ার মাঝখানে একটা প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় রয়েছে, সেটা হচ্ছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকা। কারা মুক্তিযোদ্ধা হবে না হবে, সেটা জামুকা নির্ধারণ করে দিতো। মন্ত্রণালয় শুধু তাদের নির্ধারিত হওয়া বিষয়টি বাস্তবায়নে যেত।
অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন- ইউএনও হিসেবে যোগদান করার পর কোন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে কারোর নিকট থেকে অভিযোগ পাইনি। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তাদের ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও।
নরসিংদী জেলার অসুস্থ প্রকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসমত উল্লাহ রতন বলেন-আমি কোন ধরনের রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নই, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধার ভাতা ছাড়া অন্য কোন প্রকার সুবিধা দেননি। এমনকি আমাকে বাড়ি করারও কোন প্রকার বরাদ্দ না দিয়ে আমার পাশ্ববর্তী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুল হককে বাড়ি করার জন্য বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে বহু বার বেলাবো উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে, তিনি কোন কর্ণপাত করেননি।
বেলাবো উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও)কে বহুবার কল করলেও তিনি প্রতিবেদকের কলটি রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন