অনলাইন ডেস্ক
১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা পাবেন প্রধান বিচারপতি

হাইকোর্ট ভবন। ছবি : সংগৃহীত

বিচার বিভাগের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প এবং অনুন্নয়ন বাজেটের আওতাভুক্ত কর্মসূচির ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ কোটি টাকার মধ্যে থাকলে প্রধান বিচারপতি নিজেই তা অনুমোদন করতে পারবেন। প্রয়োজন অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আর্থিক সীমা বাড়াতে পারবে। তবে ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্প অনুমোদনের জন্য তা পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে পাঠাতে হবে। এ ধরনের বিধান রেখে অধস্তন আদালতের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করা হয়েছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অধ্যাদেশ জারি করে। এর আগে ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ অধস্তন আদালতের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

অধ্যাদেশের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প মূল্যায়ন ও সুপারিশের জন্য ৮ সদস্যের একটি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হবে। আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি কমিটির প্রধান হিসেবে মনোনীত করবেন। কমিটি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয়ের প্রকল্প প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করবেন; এর বেশি হলে সরাসরি পরিকল্পনামন্ত্রীর নিকট পাঠিয়ে একনেকে উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্প গ্রহণ, প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিবের নেতৃত্বে পৃথক একটি যাচাই-বাছাই কমিটি থাকবে, যারা ২০২২ সালের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করবে।

অনুন্নয়ন বাজেটের স্কিমেও একই নিয়ম বহাল থাকবে—৫০ কোটি টাকার মধ্যে প্রধান বিচারপতির অনুমোদন এবং তার বেশি হলে অর্থ বিভাগে প্রেরণ। প্রকল্প বা স্কিমের মেয়াদ বৃদ্ধি, ব্যয় সমন্বয় বা সংশোধনসহ বিনিয়োগ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো প্রস্তাব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সুপারিশক্রমে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করবেন।

অধ্যাদেশের ১১ ধারায় বাজেট ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতি অর্থবছরের জন্য সুপ্রিম কোর্ট এবং এর কার্যপরিধির আওতাভুক্ত আদালত ও দপ্তরগুলোর সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের দুটি পৃথক বিবৃতি অর্থবছর শুরুর অন্তত তিন মাস আগে প্রস্তুত করবে। এতে বিচারপতি ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, প্রশাসনিক ব্যয়, উন্নয়ন ও আবর্তক ব্যয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সব খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রধান বিচারপতি সংশ্লিষ্ট বিবৃতি সরকারের আর্থিক বিবৃতির সঙ্গে সংসদে উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠাবেন। বাজেটে সুপ্রিম কোর্ট ও সচিবালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পুনঃউপযোজনের ক্ষমতাও প্রধান বিচারপতির হাতে থাকবে।

অধ্যাদেশের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ২২, ১০৯ ও ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ নামে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় থাকবে। এর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে প্রধান বিচারপতির অধীনে, আর সচিব হবেন সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান।

৫ ধারায় সচিবালয়ের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে: অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা; অধস্তন আদালত প্রতিষ্ঠা, বিলোপ ও এখতিয়ার নির্ধারণ; বিচারক ও কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি, শৃঙ্খলাবিধান; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ; উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা এবং প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ।

অধ্যাদেশের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় হবে বিচার বিভাগের সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক কাজ রাষ্ট্রপতির পক্ষে পরিচালনা করবে সচিবালয়। এসব বিষয়ে সচিব রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শ নেবেন। তবে আইন ও বিচার বিভাগীয় অন্যান্য দপ্তরে সার্ভিস সদস্যদের পদায়ন বা বদলি সংক্রান্ত কার্যাদি সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের বিধিমালা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সম্পন্ন হবে।

অধ্যাদেশ জারির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে—অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় করতে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। সংবিধানসহ আপিল বিভাগের ৭৯/১৯৯৯ নম্বর সিভিল আপিলের রায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদ ভেঙে থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারি করেন।

উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করতে গত বছরের ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদিতে বড় ধরনের অভিযানে গ্রেপ্তার হল ২১ হাজার প্রবাসী

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আগামী সোমবার চার্জ গঠন করা হবে

শেখ হাসিনার সঙ্গে রেহানা ও টিউলিপের পরবর্তী রায় ঘোষিত হবে সোমবার

৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা পাবেন প্রধান বিচারপতি

কুমিল্লা’য় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

৫ম ও ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২৮-৩১ ডিসেম্বর

কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টি’তে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা

কুড়িগ্রামে একই আসনে লড়বে আপন দু’ভাই দুই দল থেকে

গুমের অভিযোগ নিয়ে ট্রাইব্যুনালে ছাত্রদল নেতা

নতুন কর্মসূচির ঘোষণা জামায়াতসহ ৮ দলের

১০

জামায়াতসহ ৮ দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন আজ

১১

“জুলাই সনদের আইনিভিত্তিক গণভোট দিতে হবে” —কুমিল্লা ৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী

১২

মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

১৩

সুদানে রাস্তায় শত শত মরদেহ, কবর দেওয়ার কেউ নেই

১৪

ডিআইজি এহসানউল্লাহ পুলিশ একাডেমি থেকে পালালেন

১৫

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত বিজিবি সদস্য বেঁচে নেই

১৬

চাষাড়া’য় হতদরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ

১৭

কুমিল্লা’য় ছাড়পত্র বাতিলের পরেও বন্ধ হয়নি নিহা ইট ভাটা, নীরব ভূমিকায় জেলা প্রশাসন

১৮

চুয়াডাঙ্গায় সাজাপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামী গ্রেফতার

১৯

বিএনপি সংস্কার বিহীন আওয়ামী বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায়-কুমিল্লায় ডা. তাহের 

২০