
নির্বাচন মানে কি এখনো শুধু পাড়া-মহল্লার পোস্টার আর কানের কাছে চড়া গলার মাইকিং? যদি তাই ভেবে থাকেন, তবে আপনি এখনও পুরোনো মার্কেটিং মডেলে আটকে আছেন। মানুষ আজ আর শুধু ‘নাম’ দেখে ভোট দেয় না। তারা ভোট দেয় সেই প্রার্থীকে যাকে তারা আস্থা দেয়।
আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া হল আস্থা অর্জনের সবচেয়ে দ্রুততম মাধ্যম। তবে অনলাইন ব্র্যান্ডিং কার্যকর করতে হলে, অফলাইন অ্যাক্টিভিটিসের সঙ্গে ইউনিক ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি থাকা আবশ্যক।
কেন জটিল? রাজনীতিতে আগ্রহ কম, ফেসবুক বা ইউটিউবে বিনোদনমূলক কনটেন্ট পছন্দ।
স্ট্র্যাটেজি: ব্র্যান্ড রিকল ও পরিচিতি তৈরি করা।
কনটেন্ট আইডিয়া: এলাকার সাধারণ কিন্তু গুণী মানুষদের নিয়ে ভিডিও সিরিজ – যেমন, পুরনো লাইব্রেরিয়ান বা ৫০ বছর ধরে কাজ করা দর্জি।
কেন কাজ করবে: সাধারণ মানুষকে সম্মান দেখালে ভোটাররা প্রার্থীর ‘ম্যানার’ ও ‘ব্যক্তিত্বের’ ফ্যান হবে।
কেন জটিল? ভোট দিতে চায়, কিন্তু ভুল প্রার্থী হলে এলাকার উন্নয়ন থেমে যাবে এই ভয়।
স্ট্র্যাটেজি: ভয় কমানো ও আস্থা তৈরি।
কনটেন্ট আইডিয়া: মিথ ভাঙা ভিডিও সিরিজ – প্রার্থী নিজে ক্যামেরার সামনে সমস্যার কারণ এবং সমাধান ব্যাখ্যা করবেন।
কেন কাজ করবে: প্রার্থী ‘এক্সপার্ট’ হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং ভোটার ভাববে, “এ লোকটা অন্তত সমস্যাটা বোঝে।”
কেন জটিল? ইতিমধ্যেই প্রার্থী সমর্থক, শুধু নিশ্চিত করতে হবে কেন ভোট দেব।
স্ট্র্যাটেজি: সরাসরি ভোট নিশ্চিত করা।
কনটেন্ট আইডিয়া: প্রার্থীর ভিশন বা ইলেকশন ইশতেহারের ১ মিনিটের হাই-এনার্জি ভিডিও।
কেন কাজ করবে: তারা কনটেন্ট শেয়ার করবে এবং বুথে গিয়ে ভোট নিশ্চিত করবে।
মূল ধারণা: ভোটারদের কাছে আপনি ‘প্রার্থী’ নন, আপনি বিক্রি করছেন ‘একটি সুন্দর এলাকার স্বপ্ন’।
অ্যাক্টিভিটি: ‘স্মৃতিতে অম্লান’ বৃক্ষরোপণ – মুরুব্বিদের নামে গাছ লাগানো।
কেন কাজ করবে: ঋণী অনুভূতি তৈরি হয়, পুরো পরিবার প্রার্থীর প্রতি অনুগত হয়।
অ্যাক্টিভিটি: ফ্রি স্বাস্থ্য ক্যাম্প বা পারিবারিক সুরক্ষা উদ্যোগ।
কেন কাজ করবে: পরিবারকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ প্রার্থীকে পরিবারের অংশ হিসেবে তুলে ধরে।
অ্যাক্টিভিটি: ফুটবল/ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফ্রিল্যান্সার মিট-আপ।
কেন কাজ করবে: প্রার্থীকে আধুনিক ও প্রগতিশীল নেতা হিসেবে প্রমোট করে।
অ্যাক্টিভিটি: চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
কেন কাজ করবে: শিশুদের মাধ্যমে পরিবারের মধ্যে প্রার্থীর প্রতি পজিটিভ ইমোশন তৈরি হয়।
‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ উদ্যোগ: খাল ও পুকুর পরিষ্কার, গাছ লাগানো।
মাছ ধরা ও গণ-পিকনিক: সামাজিক উৎসবের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি।
‘আমাদের রাস্তা আমরাই গড়ি’: মাটির রাস্তা মেরামত।
মাদ্রাসা কেন্দ্রিক কার্যক্রম: ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, হিফজ বা কেরাত প্রতিযোগিতা।
স্কিল ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কশপ: তরুণদের অনলাইন ইনকাম ও প্রশিক্ষণ।
কেন কাজ করবে: প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকরী উদ্যোগ ভোটারদের আস্থা বাড়ায়।
দিনে ৩টি ভিন্ন ফরম্যাটের কনটেন্ট।
কমেন্ট সেকশনে অ্যাক্টিভ থাকা।
প্রচারণার ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ শেয়ার করা।
ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট প্রচার।
স্থানীয় হুক ব্যবহার (ভাষা, প্রবাদ বা পরিচিত জায়গা)।
লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্ব।
স্মার্ট রিকল ভ্যালু – কালার প্যালেট বা সিগনেচার টিউন।
মিথ বা গুজব দ্রুত খণ্ডন।
নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের ভিডিও।
স্থানীয় ইনফ্লুয়েন্সারের সাথে কোলাব।
রাজনীতি হোক সেবা মূলক, প্রচার হোক আধুনিক।
একটি শক্তিশালী ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি এবং মানবিক অফলাইন অ্যাক্টিভিটিসের সমন্বয়ে ভোটারদের সঙ্গে ‘ইমোশনাল কানেকশন’ গড়ে তোলা সম্ভব।
যিনি মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকেন, মানুষ তাকেই ‘নেতা’ হিসেবে বেছে নেয়। আধুনিক নির্বাচনী প্রচারণা মানে কেবল পোস্টার, মাইকিং বা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস অর্জন করা।
[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। আলোকিত জনপদের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, আলোকিত জনপদ কর্তৃপক্ষের নয়। ]
মন্তব্য করুন