বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় ছেলের হাতে মা, স্বামীর হাতে স্ত্রীসহ জোড়া খুন, আটক ১

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৪১৭ Time View


পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পৃথক দুটি ঘটনায় ছেলের হাতে মা ও স্বামীর হাতে খুন হয়েছে স্ত্রী। উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নে বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে। এ সময় নিহতের ছেলে নাছির উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩সেপ্টম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামসুন্নাহার (৮৫) একই এলাকার মৃত বদিউল আলমের স্ত্রী বলে জানা যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ ইউনুস জানায়, মঙ্গলবার রাতে নাছির উদ্দিন ধারালো দা নিয়ে হাকাবকা করে। আমরা গিয়ে তাকে শান্তনা করে বাড়িতে ঢুকিয়ে দিই। নাছির উদ্দিন বাড়িতে মাকে নিয়ে থাকত । সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখে নাছির উদ্দিন। অনেক ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া শব্দ না পেলে আমরা পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় শামসুন্নাহারের মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকে।
পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন সরকার জানায়, বৃদ্ধা শামসুন্নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে শামসুন্নাহারের মরদেহ থানা নিয়ে আসা হয়েছে। বৃদ্ধার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ওই বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাইন উদ্দিন জানায়, মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়িতে থাকা ছেলে নাছির উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে একই ইউনিয়নের পাঁহাড়িয়াখালী ছনখোলার জুম এলাকার উম্মে সালমা (১৪) নামের এক কিশোরী গৃহবধুকে যৌতুকের দাবীতে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে পাষন্ড স্বামী আলমগীর । বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সালমা। ওই দিন নিহত সালমার পরিবারের সহযোগিতায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার পুলিশ ঘাতক স্বামী আলমগীরকে চমেক হাসপাতাল থেকে আটক করে। আটককৃত আলমগীর বারবাকিয়া ইউপির ছনখোলারজুম এলাকার জাফর আলমের ছেলে।
তথ্য সংগ্রহে জানা যায়, গত (১৭ সেপ্টেম্বর) বৃহষ্পতিবার রাত আলমগীর যৌতুকের টাকার জন্য লাঠি ও চুরিকাঘাত করে উম্মে সালমাকে। ওইদিন রাতে অজ্ঞান অবস্থায় তাঁকে পাহাড়ি ঝিরিতে ফেলে দেয়। সকালে স্থানীরা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে সালমার বাপের বাড়ির লোকজন আশংকাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৫দিন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার ভোরে মৃত্যুুর কাছে হার মানে সালমা।
জানা যায়, গত তিন মাস আগে টইটং ইউপির পন্ডিতপাড়ার মুর্তুজা বেগমের মেয়ে সালমা বেগমকে বিয়ে করেন আলমগীর। বিয়ের পর থেকে তাকে যৌতুকের টাকার জন্য একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় পাষান্ড স্বামী আলমগীর। আলমগীরের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, পাহাড় দখল, চাঁদাবাজি , অবৈধ বালু উত্তোলনসহ ২০টির ও বেশী মামলা রয়েছে।
নিহতের মা মুর্তুজা বেগম বলেন, সালমার জম্মের পর স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যাই। তখন থেকে ঝিঁয়ের কাজ করে মেয়েকে পড়ালেখা করিয়েছি। টইটং শফিকীয়া মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। প্রতিবেশী দা বাহিনির প্রধান নাছির উদ্দিনের প্রলোভনে পড়ে আমার মেয়ে সালমাকে তিন মাস পূর্বে আলমগীরের সাথে বিয়ে দিই। এরপর থেকে যৌতুকের লোভে আলমগীর প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে আসছে। শনিবার বিষয়টি স্থানীয়রা আমাকে জানায়। আমি জানতামনা আমার মেয়ের এমন পরিনতি হবে।
পেকুয়া থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, নিহত সালমার লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক আলমগীর চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় আটক রয়েছে। পরে হত্যা মামলা রুজু হলে জেল হাজতে পাঠানো হবে।

ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category