পঞ্চগড়ে বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনায় আটক নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ২১ জনকে তিন দিনের মাথায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে প্রশাসন।

শনিবার (২৪ মে) বিকেলে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ডোলোপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় তাদের হাতে তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির হোসেন।

 

এ সময় পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান ও হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই আলমের উপস্থিতি ছিলেন।

এ সময় কথা হয় আটক থাকা আলেয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, আমরা ভারতে বসবাস করে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এর মাঝে গত ২১ মে ভারতীয় পুলিশ আমাদের গুজরাট এলাকা থেকে আটক করে উড়োজাহাজে কলকাতা নিয়ে আসে। পরে কলকাতা থেকে বাসে করে এনে বিএসএফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। এর পর বিজিবি আটক করে আমাদের। গত তিনদিন ধরে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ছিলাম সবাই। এর মাঝে আজ আমাদের পরিবারের সদস্যরা এসে আমাদের খুলনায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। খুব ভালো লাগছে, আজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি।

ফরহাদ হোসেন জানান, আমি পরিবার নিয়ে ভারতে থেকে একটা কিটনাশক কোম্পানিতে কাজ করতাম। এর মাঝে আমাদের সবাইকে বাড়ি থেকে তুলে নেয় ভারতীয় পুলিশ। পরে আমাকে আলাদা স্থানে ছেড়ে দেয়। এদিকে, স্ত্রী সন্তানের কোন খবর না পেলেও হঠাৎ বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তাদের ছবি দেখি। পরে পঞ্চগড় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজ পরিবারকে নিতে এসেছি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করা হয়।এরপর এলাকায় তাদের দেখে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দিলে বিজিবি তাদের আটক করে। পরে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে রাতে সবাইকে ডোলোপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে রাখা হয়।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}