আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ভোররাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। দেশের ইতিহাসে ১৫ আগস্ট দিনটি একটি গভীরভাবে আলোচিত ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

১৯৭৫ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শিশু শেখ রাসেলও নিহত হন। ওই রাতে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের মোট ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয় বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

১৫ আগস্ট ঘিরে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে পোস্টার, দোয়া ও মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগেও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের খবর পাওয়া গেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর এর বিচার বন্ধ রাখতে তৎকালীন সরকার ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। দীর্ঘ সময় পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ওই আইন বাতিল করে হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম পুনরায় এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আপিলসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় আসার পর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির রায় কার্যকর করা হয়।

জাতীয় শোক দিবসের পরিবর্তিত পরিস্থিতি

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং দিনটিতে সরকারি ছুটি চালু করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়েছে।

তবে ২০২৪ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের মর্যাদা ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। ফলে বর্তমানে দিনটি আগের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

১৫ আগস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে এবারের আয়োজনও আগের বছরগুলোর তুলনায় ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}