বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে একটি কুকুর কুমিরের আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণী কি স্বাভাবিকভাবে পানির কাছে যায় বা পানিতে নামে?

ঘটনাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কমিটি জানিয়েছে, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেটিকে পানিতে ফেলে দেয়নি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিক্যাল অনকোলজির সদস্য তাজকিয়া ইসাবা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলাতঙ্ক ভাইরাস মূলত স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। এটি কামড়ের স্থান থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে ধীরে ধীরে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায় এবং বিশেষ করে ব্রেইনস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এই সংক্রমণের ফলে গলার পেশী নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে আক্রান্ত প্রাণী যখন পানি পান করার চেষ্টা করে, তখন তীব্র খিঁচুনি ও অসহনীয় যন্ত্রণা অনুভব করে। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া এতটাই তীব্র হয় যে শ্বাসপ্রশ্বাস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞরা এটিকে “Exaggerated Protective Reflex” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এর কারণে প্রাণীর মস্তিষ্ক পানিকে বিপদের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলে এবং ধীরে ধীরে পানির প্রতি তীব্র ভীতি তৈরি হয়—যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় হাইড্রোফোবিয়া।

🔬 গবেষণা কী বলছে?

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা ও স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীরা সাধারণত পানি এড়িয়ে চলে।

  • গলার তীব্র খিঁচুনি: গবেষণায় দেখা গেছে, পানি পান করার সময় গলার পেশীতে মারাত্মক খিঁচুনি হয়, যা প্রাণীর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
  • হাইড্রোফোবিয়া: পানির সংস্পর্শ বা এমনকি পানির চিন্তাও ভয় সৃষ্টি করতে পারে।
  • মানুষ বনাম কুকুর: মানুষের ক্ষেত্রে পানি-ভীতি স্পষ্ট হলেও, কুকুরের ক্ষেত্রে তা সবসময় একই মাত্রায় প্রকাশ পায় না। তবে তারা সাধারণত পানি এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখায়।
  • ভাইরাসের কৌশল: গবেষকরা মনে করেন, ভাইরাসটি এমনভাবে কাজ করে যাতে লালা মুখে জমে থাকে এবং কামড়ের মাধ্যমে সহজে অন্য প্রাণীতে ছড়াতে পারে।
  • WHO-এর তথ্য: ‘ফিউরিয়াস র‍্যাবিস’-এর একটি প্রধান লক্ষণই হলো হাইড্রোফোবিয়া বা পানি-ভীতি।

📊 সারসংক্ষেপ:

জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণী শারীরিকভাবে পানিতে নামতে সক্ষম হলেও, পানি পানের সময় তীব্র যন্ত্রণা ও স্নায়বিক প্রতিক্রিয়ার কারণে তারা সাধারণত পানি এড়িয়ে চলে। তাই এমন প্রাণীর পানির কাছে উপস্থিতি অস্বাভাবিক হলেও সম্পূর্ণ অসম্ভব নয়—বিশেষ পরিস্থিতিতে তা ঘটতে পারে।

 

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}