রংপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার সকালে নগরীর বাহার কাছনা রামগোবিন্দ বাঙ্গীটারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কাজলী বেগম (৫০) স্থানীয় চা বিক্রেতা সাইফুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতের ঝড়ে সাইফুল ইসলামের বাড়ির বিদ্যুতের মিটারের একটি তার ছিঁড়ে গিয়ে টিনের ঘরের সঙ্গে লেগে থাকে। এতে পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে।
শনিবার সকালে নামাজ পড়তে গিয়ে ঘরের দরজায় হাত দিলে কাজলী বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার স্বামী সাইফুল ইসলাম, মেয়ে সাবরিনা, ভাসুর হাফিজুল ইসলাম ও ভাবী রত্না বেগমও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে কাজলী বেগমের মৃত্যু হয়। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিটি পুলিশের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকেই এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত।

এদিকে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ভুট্টা, ধান ও বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। অনেক ক্ষেত্রে শিলার আঘাতে গাছ ভেঙে পড়ে এবং ফলন নষ্ট হয়ে গেছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুরজ্জামান জানান, রাতভর দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে কৃষকদের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত জেলায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মৌসুমি বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}