জামালপুরের মাদারগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতঘরের সিঁড়ির সামনে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মধ্য কাতলামারী সরকার বাড়িতে ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ময়েন উদ্দিন মন্ডলের পাঁচ ছেলের মধ্যে হাবিবুর রহমান ১৯৯৭ সালে তার বাবার কাছ থেকে বাড়ির পাশের প্রায় সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি জমিটি ব্যবহার করে আসছিলেন। তবে প্রায় সাত বছর আগে ওই জমি নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কয়েক বছর আগে অভিযুক্ত তিন ভাই ও এক ভাতিজা জমিটি দখল করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন হাবিবুর রহমান, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগীর দাবি, পূর্বের বিরোধের জেরে এর আগেও তিনি ও তার পরিবার হামলার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা লোকজন নিয়ে তার বসতঘরের সিঁড়ির সামনে গাছের গুঁড়ি ও টিন দিয়ে অস্থায়ী বেড়া নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দেয়।
এর ফলে পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি গরু গোয়ালঘরে নিতে ঘরের ভেতর দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান ভুক্তভোগী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বসতঘরের সিঁড়ির সামনে টিন ও গাছের গুঁড়ি দিয়ে অস্থায়ীভাবে পথ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বলেন, “১৯৯৭ সালে বাবার কাছ থেকে কেনা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমি বেদখল হওয়ায় আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। এর জেরে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে এভাবে অবরুদ্ধ করেছে। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
এলাকাবাসীর মতে, ঘটনাটি অমানবিক হলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তারা গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”