ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের অন্যতম ব্যস্ত রেলক্রসিংয়ে নিরাপদ পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন পথচারীরা। প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক ও রেললাইন অতিক্রম করছেন, যার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেলক্রসিংটি দিয়ে দিনভর ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপ থাকে। তবে ফুটব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে দ্রুতগামী যানবাহনের ফাঁক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ট্রেন চলাচলের সময়ও অসচেতনভাবে রেললাইন পার হওয়ার দৃশ্য লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি ফুটব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং রেলক্রসিংয়ের আশপাশে অবৈধ দখল ও দোকানপাট গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পথচারীরা জানান, ফুটব্রিজ না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও নিরাপদে পারাপারের সুযোগ পাওয়া যায় না।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগও দিন দিন বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় কাজ করে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
একজন বয়স্ক পথচারী বলেন, দ্রুতগতির যানবাহনের মাঝে রাস্তা পার হওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। একইভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৫৪ শতাংশের বেশি পথচারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ পারাপারের অভাবই এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
এদিকে, অনিয়ন্ত্রিত পারাপারের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
পৌরবাসীর দাবি, দ্রুত রেলক্রসিংটিতে একটি আধুনিক ফুটব্রিজ নির্মাণ করতে হবে এবং আশপাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যস্ত এই ধরনের এলাকায় ফুটব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।