রাজধানীর শ্যামপুর থানার জুরাইন বালুর মাঠ এলাকায় অবস্থিত জুরাইন বাজারে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আওতায় সরকারি চাল ও আটা কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদ হোসেন নামের এক ওএমএস ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে বাবু নামের এক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এসব পণ্যের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওএমএস ডিলাররা অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে নিজেদের লাইসেন্স বা দোকান অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া বা চুক্তিতে দিয়ে দেন। এরপর ভাড়াটে বা একটি চক্র ভর্তুকিযুক্ত চাল-আটা নির্ধারিত মূল্যে সুবিধাভোগীদের কাছে বিক্রি না করে বেশি দামে খোলাবাজারে বিক্রি করে থাকে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের প্রাপ্য খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, জুরাইন আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার পরও বাবু নামে ওই ব্যবসায়ী নিজে ডিলার না হয়েও রিয়াদ হোসেন নামের একজন ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে জুরাইন বাজারে চাল-আটার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওএমএস সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম চাল-আটা দেওয়া হয় বা ট্রাকে আনা পণ্যের ওজনে কম থাকে। পরে সেই পণ্য গোপনে মজুদ করে খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

প্রায় এক মাস আগে জুরাইন কবরস্থান সংলগ্ন একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ওএমএসের চাল ও আটার বস্তা উদ্ধার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পরে সেগুলো শ্যামপুর মডেল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান বা কঠোর পদক্ষেপ তেমন দেখা যায় না।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহ করা খাদ্যসামগ্রী যদি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে না পৌঁছে, তাহলে তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এ ধরনের অনিয়মে জড়িত ডিলারদের বিরুদ্ধে জরিমানা, ডিলারশিপ বাতিল বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া খুব কমই দেখা যায়।

এ বিষয়ে ওএমএস কর্মকর্তা এআরইউ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “রিয়াদ নামের ডিলারের কার্যক্রম অন্য কেউ পরিচালনা করছে—এ বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন বিষয়টি জেনেছি, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।”

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}