গোপালগঞ্জ জেলাকে মাদক, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেটমুক্ত একটি নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেছেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির প্রথম মাসিক সভায় এ আহ্বান জানান গোপালগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী

সভায় তারা বলেন, গোপালগঞ্জকে মাদক, ইভটিজিং, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সিন্ডিকেট, প্যাথলজি ল্যাব টেস্ট সিন্ডিকেট, ওষুধ সিন্ডিকেট এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করতে প্রশাসন ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অতীতে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিয়ে তদন্তের বিষয়েও তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়েছে।

তারা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গোপালগঞ্জে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে যেকোনো সমস্যায় সরাসরি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করারও আহ্বান জানান তারা।

পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে তারা বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে তালিকা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সভায় বিভিন্ন বিষয়ে মতামত

সভায় মুক্ত আলোচনায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. তৌফিকুল ইসলাম কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন।

প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের সভাপতি বি এম জুবায়ের হোসেন সাম্প্রতিক একটি হোটেলে কিশোর গ্যাংয়ের ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এছাড়া জেলা চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে জাল টাকার বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সড়ক, পরিবহন ও ঈদ নিরাপত্তা

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে যেন কোনো পরিবহন মালিক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য

জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ সভায় বলেন, পার্শ্ববর্তী জেলার তুলনায় গোপালগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় কেউ যেন তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তদবির না করেন, সে আহ্বান জানান তিনি।

ঈদের সময় অনেকেই শহরের বাড়ি ফাঁকা রেখে গ্রামে চলে যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে, তবে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে জেলার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}