জামালপুরের মাদারগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে আক্কাস আলী নামে এক যুবককে মারধর ও কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্যালিকাদের বিরুদ্ধে। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পূর্ব সানাইবান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন—স্ত্রী বছিরা বেগম, শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম এবং শ্যালিকা সেলিনা বেগম ও কাজল রেখা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে একই গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে আক্কাস আলী প্রেম করে সিরাজুল ইসলামের মেয়ে বছিরা বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় আক্কাস শ্বশুরবাড়ির পাশেই আলাদা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন।

সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হলে স্ত্রী বছিরা বেগম বাবার বাড়িতে চলে যান। রবিবার বিকেলে রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর আক্কাসের বাড়িতে এসে শ্বশুর, স্ত্রী ও শ্যালিকারা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

এক পর্যায়ে শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম কোদাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। কোদালের আঘাত ঠেকাতে গেলে আক্কাস আলীর আঙুলেও গুরুতর জখম হয়। এ সময় বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি তার কাছে থাকা প্রায় ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার মাথায় ৯টি এবং আঙুলে ৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী আক্কাস আলী বলেন, “স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার জেরে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়িতে এসে হামলা চালায়। স্ত্রী ও শ্যালিকারা আমাকে ধরে রাখে, আর শ্বশুর কোদাল দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে অভিযুক্ত শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তার জামাই আক্কাস আলী নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করেছেন।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}