পারভেজ হাসানঠা: কুরগাঁও প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক বিতর্কের অভিযোগে আলোচিত পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কামাল আহমেদ অবশেষে তার দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা এবং স্থানীয় জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী তিনি নতুন কর্মস্থল হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (নিয়মিত) হিসেবে যোগদান করেছেন । তবে তার এই নতুন কর্মস্থলে যোগদান ঘিরেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে ডাঃ কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক অনিয়ম, দাপ্তরিক দায়িত্বে গাফিলতি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান অবনতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদ দেখা যায়।

একাধিক সূত্র দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। অবশেষে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

এদিকে ডাঃ কামাল আহমেদের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সচেতন মহল, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, যে কর্মকর্তাকে ঘিরে একটি উপজেলায় এত বিতর্ক ও অভিযোগ রয়েছে, তাকে আবার অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় একই পদে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


রাণীশংকৈল উপজেলার কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, “এক জায়গায় নানা অনিয়মের অভিযোগে সমালোচিত একজন কর্মকর্তাকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান হয় না। বরং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”
স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে শুধু বদলি নয়, প্রয়োজন হলে কঠোর প্রশাসনিক তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী বদলি করা হয়েছে এবং তিনি রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্যসেবার মান রক্ষায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}