ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে।

তেলের দামে বড় উল্লম্ফন

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড Brent Crude-এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ ডলারের ওপরে উঠেছে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৬ ডলার পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য।

চলতি বছরের শুরু থেকেই ইরানকে ঘিরে কঠোর অবস্থান ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে তেলের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছিল। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে ঝুঁকি

বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশের বেশি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে। নৌচলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে Donald Trump বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় চলতে পারে। প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পদক্ষেপ চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গ্যাস স্টেশনগুলোতে দাম বাড়তে শুরু করেছে। জাতীয় গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে। অপরিশোধিত তেলের খুচরা মূল্য বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৭ দশমিক ৩৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

আর্থিক বাজারে প্রতিক্রিয়া

মঙ্গলবার মার্কিন শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে বড় পতন দেখা গেলেও দিনশেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তবে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনা ও মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। সোনার দাম ২ শতাংশ বা ১০০ ডলারের বেশি বেড়েছে।

গ্যাস ও এলএনজি বাজারে চাপ

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ Qatar জানিয়েছে, হামলার কারণে তাদের কিছু স্থাপনায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এ খবরে ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে।

ইরাকের উৎপাদন কমানোর আশঙ্কা

ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ Iraq জানিয়েছে, ট্যাঙ্কার চলাচল ব্যাহত হলে তারা দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে। ইতোমধ্যে রুমাইলা ও পশ্চিম কুরনা-২ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমানো হয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে। এতে ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে—ফলে অঞ্চলটির অস্থিরতা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}