পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার শুরু হওয়া এই অভিযানের পর ত্রিপক্ষীয় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ইরান। প্রাণহানির পাশাপাশি দ্রুত বাড়ছে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—ওয়াশিংটন কতদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে এবং তার আর্থিক প্রভাব কতটা গভীর হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কত?
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়-এর ২০২৫ সালের যুদ্ধ ব্যয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রায় ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
এ ছাড়া ইয়েমেন, ইরান এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৯.৬৫ থেকে ১২.০৭ বিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১.৩৫ থেকে ৩৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার—এবং ব্যয় এখনও অব্যাহত।
অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’তে ব্যবহৃত অস্ত্র
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে আকাশ, সমুদ্র ও স্থলভিত্তিক বাহিনীর সমন্বয়ে ২০টিরও বেশি অস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানে হামলায় ব্যবহৃত প্রধান সামরিক সরঞ্জামগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বি-১ ও বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান
- এফ-৩৫, এফ-২২, এফ-১৫, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান
- ইএ-১৮জি ও এডব্লিউএসিএস
- এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন
- হিমারস রকেট সিস্টেম
- টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র
- থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
নৌবাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে USS Gerald R. Ford ও USS Abraham Lincoln-কে কেন্দ্র করে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। এছাড়া পি-৮ পোসেইডন নজরদারি বিমান এবং সি-১৭ ও সি-১৩০ পরিবহন বিমান মোতায়েন রয়েছে।
কত খরচ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের?
আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হতে পারে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার। হামলার আগের প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Center for a New American Security জানায়, একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়।
স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র গবেষক ক্রিস্টোফার প্রেবল বলেন, পেন্টাগন পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেনি। তাই মোট খরচ অনুমান নির্ভর। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার, যা ১.৫ ট্রিলিয়নে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে।
বড় উদ্বেগ কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক সক্ষমতার চেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬ ধরনের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মত, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে—যার কৌশলগত সুবিধা নিচ্ছে ইরান।