গলাচিপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া।
আর এই নির্বাচনী আলোচনায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক চাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তৃণমূলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী ছাত্র নেতা নাইম হোসেন বাপ্পির। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এই নেতাকেই নিজেদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাইছেন এলাকাবাসী।
এলাকার সাধারণ জনগণ ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, নাইম হোসেন বাপ্পির মতো একজন শিক্ষিত, পরীক্ষিত এবং ত্যাগী নেতার জনপ্রতিনিধি হওয়া এখন সময়ের দাবি।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেলে তিনি গলাচিপা উপজেলার সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে এলাকাবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
আসন্ন নির্বাচন ও জনগণের বিপুল সমর্থন প্রসঙ্গে শনিবার গলাচিপা অফিসার্স ক্লাবে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নাইম হোসেন বাপ্পি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আমি গলাচিপা উপজেলা পরিষদের সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।এলাকার সাধারণ মানুষ আজ যেভাবে আমাকে ভালোবেসে আপন করে নিয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত। জনগণ যদি আমাকে তাঁদের সেবক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেন, তবে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও আধুনিক গলাচিপা উপজেলা গড়তে আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে কাজ করে যাব।
গলাচিপা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে জনভোগান্তি দূরীকরণ ও আধুনিক উপজেলা গড়ার লক্ষ্যে নাইম হোসেন বাপ্পির ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তার প্রতিশ্রুতিগুলো হলো:
১. অবকাঠামোগত উন্নয়ন
• রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ: গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার, নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং ব্রিজ-কালভার্টের উন্নয়ন।
• বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট: প্রতিটি গ্রামে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা।
২. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা
• চিকিৎসা সেবা: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন (বেড সংখ্যা বৃদ্ধি), বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মাধ্যমে দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া
• শিক্ষা ব্যবস্থা: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আইসিটি ল্যাব স্থাপন।
৩. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি
• কৃষক সহায়তা: সুলভ মূল্যে কৃষি উপকরণ (বীজ, সার) সরবরাহ এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি।
৪. কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন
• কারিগরি প্রশিক্ষণ: বেকার যুবকদের জন্য কম্পিউটার এবং ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
• ক্ষুদ্র শিল্প: কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা এবং উদ্যোক্তা তৈরি।
৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও সুশাসন
• পারিবারিক সহায়তা: অসহায় পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা বিশেষ সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি।
• দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নাগরিক সেবা প্রদান।
• চাঁদাবাজ নির্মূল : সকল হাঁট বাজার, ঘাট, ক্ষেতে চাঁদাবাজি বন্ধ।
৬. পরিবেশ ও স্যানিটেশন
• বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পরিকল্পিত স্যানিটেশন এবং আধুনিক বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা।
• নদীর ভাঙন রোধ: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নদী ভাঙন রোধে শক্ত বেরিবাঁধ স্থাপন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
কথায় নয় কাজে হবে পরিচয় মনে করেন, নাইম হোসেন বাপ্পি। সুশিক্ষিত, দূর্নীতিমুক্ত এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর সুষম উন্নয়নই পারে একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে। তিনি বলেন, আমি কেবল নেতা হতে আসিনি, বরং জনগণের সেবক হয়ে প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।