পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। কলকাতা, দিল্লি, আগরতলা ও গৌহাটিসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের কর্মসূচি

কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতা প্রাঙ্গণে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হয়। একুশের সকালে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করেন ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার সিকদার মো. আশরাফুর রহমান।

পরে মিশন প্রাঙ্গণের শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া এক মিনিট নীরবতা পালন, বাণী পাঠ, UNESCO মহাপরিচালকের ভিডিও বার্তা প্রদর্শন এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

দেশপ্রিয় পার্কে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ

বিকেলে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্ক-এ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী-সহ রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।

তবে দক্ষিণ কলকাতায় প্রভাতফেরীর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলমান থাকায় র‍্যালির জন্য পুলিশি অনুমতি মেলেনি বলে জানা গেছে।

শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর কর্মসূচি

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে অবস্থিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়-এও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

সকালে আন্তর্জাতিক গেস্ট হাউস থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্বভারতী চত্বর পরিক্রমা করে বাংলাদেশ ভবনে পৌঁছায়। সেখানে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কলকাতায় সারারাত বাংলা ভাষা উৎসব

মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র উদ্যোগে কলকাতায় সারারাতব্যাপী বাংলা ভাষা উৎসবের আয়োজন করা হয়। রবীন্দ্রসদন সংলগ্ন একাডেমি অব ফাইন আর্টস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসবে নাচ, গান, কবিতা, নাটক, যাদু, বাউল ও লোকসংগীত পরিবেশিত হয়। শনিবার সকালে প্রভাতফেরীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে যৌথ উদযাপন বন্ধ

প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পেট্রাপোল বেনাপোল সীমান্ত-এর নোম্যান্সল্যান্ডে দুই বাংলার প্রতিনিধিদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হলেও গত দুই বছর ধরে সেই আয়োজন বন্ধ রয়েছে। ফলে ভাষাপ্রেমীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা দুই বাংলার সৌহার্দ্য বিনিময়ের প্রত্যাশা নিয়ে উপস্থিত হলেও এ বছরও সেই মিলন না হওয়ায় অনেকেই ভারাক্রান্ত মনে বাড়ি ফিরেছেন। ভবিষ্যতে আবারও দুই বাংলার যৌথ উদযাপন ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশাই প্রকাশ করেছেন উপস্থিত ভাষাপ্রেমীরা।

উপসংহার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়েছে। ভাষার মর্যাদা ও বহুভাষিকতার চেতনা জাগ্রত রাখতেই এই আয়োজন—এমনটাই জানিয়েছেন আয়োজকরা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}