তিস্তা নদী সুরক্ষা ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছেন রংপুর-৪ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেলসেতু এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা দেন।

ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীর উন্নয়ন,শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি,পরিবেশ সুরক্ষা, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, মাদক নির্মূল করা, শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্র তৈরি, পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ জীবন-জীবিকার মনোন্নয়নে ১০টি খাতে ৪৯ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আখতার হোসেন বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করতে চাই। তিস্তা নদীতে প্রতি বছর বন্যার সময় ভাঙ্গন দেখা যায়। এতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ নদীর পানিতে বিলীন হয়ে যায়। আমরা তিস্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। তিস্তা নদী খনন করে গভীরতা ও নাব্যতা ঠিক করে নদীর গতিপথ দিয়েই যেন পানি প্রবাহিত হয়, আমরা সেটা করবো। তিস্তার দু’পাড়ে বাঁধ দেয়াসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। এ নদীর উজানে ভারত বাঁধ দিয়েছে। বর্ষার সময় তারা হঠাৎ করে বাঁধ খুলে দিলে আমাদের নদীপাড়ের কৃষক ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়। কৃষকরা যেন তাদের ফসল তুলে ফেরতে পারে, নদী পাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি যেন সরিয়ে ফেলা যায় এ লক্ষ্যে ভারত বাঁধ খুলে দেয়ার কমপক্ষে ৩ দিন আগে যেন আমাদের জানায় তিস্তা নিয়ে ভারতের সাথে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। সেই সাথে তিস্তা পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা ফিরে পেতে চাই।
এ সময় এনসিপি রংপুর মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর নয়ন, আলাল উদ্দিন কাদেরী শান্তি, সংগঠক তৌফিক ইসলামসহ দলের কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য; কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। এখানে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হিসাবে শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন আখতার হোসেন।
এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রগতি বর্মণ তমা (কাঁচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জল চন্দ্র রায় (ডাব), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ্ মো. মাহবুবার রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাহিদ হোসেন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম বাসার (হরিণ)।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}