ইসলামে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন,
“আর তোমরা আমার স্মরণোদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো।” (সুরা ত্বহা : ১৪)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,
“তুমি সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো এবং ফজরের নামাজ কায়েম করো। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।” (সুরা বনি ইসরাঈল : ৭৮)
শীতকাল ও নামাজ: মুখ ঢেকে পড়া নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশে বর্তমানে শীত মৌসুম চলছে। ইসলামে শীতকে ‘মুমিনের বসন্ত’ বলা হয়। তবে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে অনেক মুসল্লিকে নামাজের সময় চাদর, মাফলার বা মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—
শীতে মুখ ঢেকে নামাজ পড়া কি জায়েজ? এভাবে নামাজ আদায় করলে কি তা শুদ্ধ হয়?
আলেমদের ব্যাখ্যা কী বলছে
এ বিষয়ে রাজধানীর জামিয়া ইকরা’র ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন,
স্বাভাবিক অবস্থায় চেহারা খোলা রেখে নামাজ আদায় করা সুন্নত। কোনো ওজর ছাড়া মুখ ঢেকে নামাজ পড়া মাকরুহ।
তিনি আরও জানান, শীতের সময় চাদর, মাফলার, রুমাল, কেফিয়াহ, ওড়না বা মাস্ক দিয়ে পুরো মুখ কিংবা মুখের একাংশ ঢেকে নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকা উচিত—যদি না বিশেষ কোনো প্রয়োজন থাকে।
হাদিসে কী বলা হয়েছে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত,
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামাজের সময় মুখ ঢাকতে এবং কাঁধের দুই পাশে কাপড় ঝুলিয়ে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
(সুনানে আবু দাউদ : ৬৪৩)
মুখ ঢেকে নামাজ পড়লে নামাজ হবে কি?
মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন—
কোনো বিশেষ অসুবিধা ছাড়া মুখ ঢেকে নামাজ পড়লে তা মাকরুহ হলেও নামাজ হয়ে যাবে
এ ক্ষেত্রে নামাজ পুনরায় আদায় করতে হবে না
তবে শরিয়তে গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর থাকলে মুখ ঢেকে নামাজ পড়া মাকরুহ হবে না
কখন মুখ ঢেকে নামাজ পড়া জায়েজ
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে মুখ ঢেকে নামাজ আদায় করা জায়েজ—
সর্দি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হলে
জামাতে নামাজের সময় পাশের মুসল্লির কষ্ট বা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে
প্রচণ্ড ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে
এ ক্ষেত্রে নাক-মুখ ঢেকে নামাজ আদায় করা শরিয়তসম্মত।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}