বর্ষার পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয় মাছের ঘের কাটার কাজ। এ প্রক্রিয়ায় প্রতি বছরই অবৈধভাবে বাড়ছে জমির শ্রেণি পরিবর্তন। একই সাথে যথেচ্ছ এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে ঘের কাটায় উল্লেখযোগ্য হারে কমছে চাষযোগ্য জমির পরিমান। যে জমি কেটে ঘের তৈরি করা হচ্ছে তার পাশ্ববর্তী জমিগুলিও ক্রমান্বয়ে ঘের তৈরি করতে উদ্যোগ নিচ্ছে কৃষি জমির মালিকেরা। অপরিকল্পিতভাবে ঘের কাটার ফলে উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিপাকে পড়ছেন কৃষকেরা।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা মধ্যপাড়া এলাকায় প্রায় ৬ বিঘা চাষযোগ্য জমি ক্রয় করে চলতি মাসের শুরু থেকে ঘের কাটা শুরু করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কংশুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে আব্দুল কাদের জিলানী (২৪)।

সরকারি অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে কৃষি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মাছের ঘের কাটার অভিযোগ পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখেন যে যথেষ্ট গভীর করে ঘের কাটা হচ্ছে। পাশ্ববর্তী জমির মালিকেরা এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে অবৈধ ঘের কাটায় জমি থেকে পানি নিষ্কাসন ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে।
কেনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শ্রেণি পরিবর্তন না করে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ঘের কাটছে তা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমার জমিতে আমি ঘের কাটবো, এটা আমার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত। একাজে কেউ বাঁধা দিলে তা আমি মানবোনা।

এ ব্যাপারে আলাপ করা হলে জেলার কাশিয়ানি উপজেলার রাজপাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষি জমিতে অবৈধভাবে ঘের বা পুকুর বা মাটি কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কাজ করলে বালু মহাল ও মাটি ব্যাবস্থাপনা আইন-২০১০ মোতাবেক ৫০ হাজার টাকা বা বেশি জরিমানা এবং দুই বছরের জেল হতে পারে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এধরণের শাস্তি প্রদানের বিধান রয়েছে। আমি সিংগা মিয়াঝির কান্দি এলাকায় ঘের কাটার বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। জিলানিকে ঘের কাটতে নিষেধ করলে তিনি বলেন, “আমি আমার জমিতে ঘের কাটবো। আপনার যা করার করতে পারেন।” এরপর এ ঘটনাটি আমি কাশিয়ানী সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারকে অবগত করলেও কোনো পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন কিনা তা আমার জানা নেই।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}