দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও অননুমোদিত হ্যান্ডসেটের ব্যবহার ঠেকাতে ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে সংযুক্ত করা হচ্ছে, যার ফলে চোরাই ও অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা সহজ হবে।

এনইআইআর চালুর পর কিছু বিষয় নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে অস্বাভাবিকভাবে একাধিক মোবাইল ফোন বা সিম নিবন্ধিত দেখাচ্ছে। এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, এনইআইআর চালু হলেও আগামী ৯০ দিন কোনো অবৈধ বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না। তাই ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

একটি এনআইডির বিপরীতে বেশি সংখ্যক ফোন বা সিম দেখানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি হিস্টোরিক ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। অপারেটররা পুরোনো ও বর্তমান—সব তথ্য একসঙ্গে সিস্টেমে আপলোড করেছে। মাইগ্রেশনের তারিখ বর্তমান সময়ের হওয়ায় অনেকের এনআইডিতে সচল সিম বা ডিভাইসের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে এবং ধাপে ধাপে পুরোনো ডেটা আর্কাইভ করে কেবল বর্তমানে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের তথ্য দেখানো হবে।

এনইআইআর–সংক্রান্ত ভুল ও সমস্যাগুলো তুলে ধরার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, শুরুতে যেকোনো প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে কিছু জটিলতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক, যা ধীরে ধীরে সমাধান করা হবে। তিনি জানান, এটি পুরোপুরি নতুন কোনো সিস্টেম নয়; ২০২১ সালে প্রথম চালুর চেষ্টা হয়েছিল। বর্তমানে প্রয়োজনীয় ফিচার যুক্ত করে আবার সক্রিয় করা হয়েছে এবং নতুন করে ভিএপিটি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এক সময় একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০টি, পরে ১৫টি পর্যন্ত সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল, যা এখন ১০টিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। সে কারণেই হিস্টোরিক ডেটায় অনেক এনআইডির বিপরীতে বেশি সংখ্যক হ্যান্ডসেট বা সিম দেখা যাচ্ছে।

এনইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির এনআইডির বিপরীতে কতটি সিম ও কতটি ডিভাইস ব্যবহৃত হয়েছে—এই তথ্য জানা নাগরিক অধিকার। এতে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধ শনাক্ত করাও সহজ হবে।

ডাটাবেজের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিস্টেমে নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন (JWT), রেট লিমিটসহ একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বর্তমানে এনআইডির বিপরীতে আইএমইআই তথ্য দেখানোর জন্য নির্দিষ্ট ম্যাপিং করা আছে এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত সুরক্ষা স্তর যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}