
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্ক এখন চরম পরীক্ষার মুখে। ভারতীয় মাঠে ম্যাচ খেলার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানানো বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার সরাসরি আলোচনায় বসছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আইসিসি মূলত বাংলাদেশকে বর্তমান সূচি অনুযায়ী ভারতের মাটিতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলতে রাজি করানোর চেষ্টা করবে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজন হবে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ‘সি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় নির্ধারিত—৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির, এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।
তবে রোববার বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছে, বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতের বাইরে অন্য কোনো ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হোক। বোর্ড বলছে, এটি করা হয়েছে খেলোয়াড়দের “নিরাপত্তা ও কল্যাণ” নিশ্চিত করার জন্য।
এ টানাপোড়েনের শুরু মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স ২০২৬ মৌসুমের স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়। নিলামে ৯.২ কোটি রুপিতে কেনা এই বাঁহাতি পেসারকে কেন বাদ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে বিসিসিআই প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। জানা গেছে, নিলামের পর এখনো আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।
বিসিবি আইসিসিকে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের যেকোনো জায়গায় অবস্থানরত বা ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। যদিও এখন পর্যন্ত সরকার ভারত নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেনি।
আইসিসি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা সোমবার মুম্বাইয়ে বিসিসিআই সদর দপ্তরে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, বিসিবির পক্ষ থেকে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজন পরিচালককেই আইসিসি ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বৈঠকের ফলাফলের দিকে এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব নজর রাখছে। এই আলোচনা নির্ধারণ করবে—বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোচ্ছে।
মন্তব্য করুন