
মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালুর বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিন গ্রেপ্তারকৃতদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের কারাগারে প্রেরণের আবেদন জানালে শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাগর তপাদার ৩৯ জনের জামিন আবেদন করেন। বাকি ছয়জনের পক্ষে আলাদা দুইজন আইনজীবী পৃথকভাবে জামিনের আবেদন উপস্থাপন করেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন— মো. দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ আহমেদ শুভ, মো. শাহজাহান, অপূর্ব ইসলাম, শরিফুল ইসলাম নিলয়, মো. জাহিদ হাসান হৃদয়, মো. শাহেদ ভূইয়া, বুলবুল আহমেদ, দীপক হাজরা, মো. মান্না হোসেনসহ মোট ৪৫ জন।
শেরে বাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. শামসুজ্জোহা সরকার আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তারকৃতদের পাশাপাশি ৫০০ থেকে ৬০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিটিআরসি ভবন ও স্টাফবাসে ভাঙচুর চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় স্থাপনার ক্ষতি সাধন।
মামলার নথি অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান একাধিকবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর ব্যবস্থা চালু করা হয়।
এনইআইআর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গ্রেপ্তার আসামিদের সঙ্গে আরও শতাধিক আন্দোলনকারী ক্ষুব্ধ হয়ে আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে হামলা চালায়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, এ হামলায় ভবনের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া বিটিআরসির একটি ৫১ আসনবিশিষ্ট এসি স্টাফবাস ভাঙচুর করা হয়, যার ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক এক লাখ টাকা।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আসামিরা আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে সড়কে জড়ো হয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা রাষ্ট্রীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, সরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ভবনের কাচের দেয়াল ও স্টাফবাসে হামলা চালায়। জিজ্ঞাসাবাদে এসব ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা আসামিরা স্বীকার করেছে বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করা হয়। এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মন্তব্য করুন