অভাব অনটনের সংসারে জীবন বাঁচাতে সামান্য যে টুকু ভিটেমাটি ছিল তা বিক্রি করে স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান কে নিয়ে প্রায় ১০ বছর আগে কাজের উদ্দ্যেশে ঢাকায় পাড়ি জমান কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহবাজ গ্রামের বন বিহারি চন্দ্রের পুত্র তপন চন্দ্র বর্মন(৪৮) ঢাকার সাভার থানার মধুপুর গণকবাড়ী ধামসোনা নামক স্থানে একটি কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ শুরু করেন ।
বেশ সুখেই চলছিল তার সংসার ও ছেলের পড়া লেখা। এরই মাঝে হঠাৎ করে স্ত্রী সিন্ধু রানী (৩৮)স্টোক করে হাত-পা অবশ হয়ে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। নিজে চলাফেরার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেন স্ত্রী । হুইলচেয়ার বসে স্বামীর সহযোগিতা ছাড়া খাওয়া দাওয়া প্রকৃতির ডাকে সারা দেওয়া কোনটাই তিনি করতে পারেন না।
এ অবস্থায় স্বামী তপন চন্দ্র বর্মন স্ত্রী কে নিয়ে প্রায় এক মাস আগে কাউনিয়ার তালুক শাহবাজ গ্রামে এসে ভাইয়ের বাড়িতে ওঠেন। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার প্রশান্ত কুমার পন্ডিত কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহন করেন। হাতে টাকা পয়সা না থাকায় বর্তমানে এক রকম চিকিৎসা বন্ধ হয়ে পরে। এদিকে ভাইয়ের বাড়িতে পর্যাপ্ত ঘর না থাকায় এবং অসুস্থ স্ত্রীর প্রশাব-পায়খানার গন্ধের কারণে চার দিন আগে নিজের ভাই তার অসুস্থ স্ত্রী সিন্ধু রানী সহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এ বিষয়ে তপন চন্দ্রের বড় ভাই কেরকা চন্দ্র বর্মন বলেন তিন চার শতক জমিতে আমার তিনটি ছোট ছোট ঘর আমার ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকার মতো আমারে জায়গা হয়না, আমি তাদের কোথায় থাকতে দেই। শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিবেশির উঠানে খোলা আকাশের নীচে মাটিতে ধানের খড় বিছিয়ে পলিথিন টাঙ্গিয়ে অসুস্থ স্ত্রী কে নিয়ে চার দিন ধরে কনকনে ঠান্ডায় বিনিন্দ্র রজনী যাপন করছেন তপন চন্দ্র বর্মন। স্থানীয় নশু মেকার বলেন আমি বৃহস্পতিবার বিকালে একটি চৌকি ক্রয় করে তাদের থাকতে দিয়েছি। একমাত্র ছেলে চাকুরীর জন্য কী একটি প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় আছেন। এ কারণে তপন চন্দ্র বর্মন একটি কৃষি খামারে কাজ নিলেও অসুস্থ স্ত্রী ফেলে রেখে কাজে যেতে পারছেন না।
আয় রোজগার না থাকায় তাই প্রতিবেশিদের দান করা খাবার খেয়ে চলছে তাদের স্বামী স্ত্রীর জীবন। এমনি যেখানে খাবার জোটানো দায় সেখানে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য টাকা পয়সা পাবে কোথায়। এ জন্য তিনি স্ত্রী চিকিৎসার জন্য কিছু অর্থ, প্রতিবেশি বা দানশীল ব্যক্তি ও সরকারের নিকট বাড়ি করার জন্য ২ শতক জমি ও একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছেন। প্রতিবেশি রবীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন তাদের এ অবস্থা দেখে আমরা প্রতিবেশিরা তাদের খাবার দিয়ে আসছি। তালুক শাহবাজ গ্রামের বাসিন্দা মুত্তালেব হোসেন বলেন তপনের স্ত্রী খুবই অসুস্থ তার চিকিৎসা করার মত অর্থকড়ি নেই তাই সবাইকে সাহায্য হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহব্বান জানাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া আক্তার বলেন আপনাদের মাধ্যমে বিষয় আমি জানতে পারলাম। সরেজমিনে গিয়ে বিষয় টি দেখবো।
মন্তব্য করুন