
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নেতৃত্বদানের অভিযোগে ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পুলিশ জানায়, ইয়াছিন আরাফাত ভালুকা থানার দক্ষিণ হবিরবাড়ি (কড়ইতলা মোড়) এলাকার বাসিন্দা এবং গাজী মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি টানা ১২ দিন দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।
তদন্তে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির গেটে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করার ক্ষেত্রে ইয়াছিনের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উত্তেজিত জনতাকে উসকে দিয়ে দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে মারধর করেন। পরে হত্যার পর মরদেহ রশি দিয়ে টেনে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে সেখানে আগুনে পোড়ানোর ঘটনাতেও তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, ইয়াছিন আরাফাত স্থায়ীভাবে ভালুকার বাসিন্দা হলেও গত প্রায় দেড় বছর ধরে উপজেলার কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। ঘটনার পর তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়ে ঢাকার ডেমরা এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান নেন এবং পরিচয় গোপন করে ‘সুফফা মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন