
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে দলটি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবে এবং এজন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ এবার স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমান নির্বাচনের পরিবেশ ভালো।” তিনি আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবার দেশের জন্য একটি বড় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি করবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি নিজেই সবসময় প্রথম থেকেই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে যুক্ত থেকেছে। তারেক রহমান বিদেশ থেকে দেশে ফিরে প্রথম জনসভাতেই ‘শান্তি ও সমঝোতা’কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বিএনপি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে ভবিষ্যতেও তারা দেশের পাশে দাঁড়াবে।
বৈঠকে শ্রমিকদের কল্যাণ এবং আইন সংস্কারের বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনার কথাও আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে। ইইউ প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়ার সময় লেবার কোড সংশোধন এবং লেবার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে শ্রম আইনের আধুনিকায়ন ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে দলটি আগ্রহী।
জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নজরুল ইসলাম জানান, এটি নির্বাচনী সময়সূচীর ওপর নির্ভর করছে, তবে আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বিএনপি সবসময় উৎসাহী। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন পাবে।
বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মন্তব্য করুন