সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নে একসময় বিস্তৃত যে ভূমি ছিল গোলাপের রাজ্য, নানান রঙের ফুলের সৌরভ ছড়াতো চারপাশ, সেই উর্বর জমিতে এখন অপরিকল্পিত নগরায়নের আগ্রাসন দেখা দেওয়ায় সাভারের গোলাপ চাষিরা ভালো নেই এবং আবাসন প্রকল্পের পরিধি বাড়তে থাকায় ক্রমেই সাভারের বিরুলিয়ায় গোলাপ বাগানের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, যার ফলে নানাবিধ সংকট ও প্রতিবন্ধকতায় চাষীদের অবস্থা নিম্নমুখী হচ্ছে।
গোলাপ গ্রাম হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে প্রতি মৌসুমে প্রায় শত কোটি টাকা আয় আসত, তবে বর্তমানে ফুলের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় কৃষকরা লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন।
কারণ এই মৌসুমে বাগানে ফুল কম এবং পানির একটি বড় সমস্যা ছিল, যেখানে সরকারি বড় মোটরটি পনেরো থেকে বিশ দিন বা এক মাস নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে এবং সে সময় ফুল প্রতি পিস দুই-তিন টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ফুল কম থাকায় ১০-১৫ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
একসময় যে সকল বিস্তৃত জমি ছিল,সেগুলোর মালিকরা এখন কোম্পানিগুলোর কাছে জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে চাষিরা উল্লেখ করেছেন এবং কোম্পানিগুলো ঢুকলে সে সকল জায়গাতে কেনাবেচা শুরু হয়ে যায়, যা বাগানের পরিধি কমার অন্যতম কারণ।
ফুলের উৎপাদন কমার সাথে পাল্লা দিয়ে গোলাপ গ্রামখ্যাত এই এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড়ও কমছে, এবং ঘুরতে আসা মানুষেরাও বাগানের পরিবেশ দেখে হতাশ হয়ে জানিয়েছেন যে, তাদের অনেক বেশি সতেজ গোলাপ দেখার প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু আসার পর দেখা যাচ্ছে ফুল খুবই কম এবং তাদের মনে হচ্ছে আর কয়েক বছর পর বা কয়েক মাস পরে এই বাগান হারিয়ে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ এই উৎপাদন বৃদ্ধিতে চাষীদের পাশে থাকার কথা জানালেও, আবাসন আগ্রাসন ঠেকাতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কর্মকর্তারা, তারা মনে করেন নগরায়ন এবং হাউজিং এর কারণে বাড়িঘর তোলার ফলে ফুল চাষীদের জমি কমে যাচ্ছে, তাই সরকারের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত এবং একই সাথে চাষীরা যেন নির্বিঘ্নে সার ও কীটনাশকের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পায়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।
সাভারের বিরুলিয়াতে একসময় ২০০ হেক্টর জমিতে গোলাপ চাষ হলেও বর্তমানে আবাসন প্রকল্পের কারণে তা কমে ১১০ হেক্টরে এসে দাঁড়িয়েছে, এমতাবস্থায় উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন