
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে নানা ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় পার্টি এখন খুব আলোচনায় নেই এবং নীরবে অবস্থান করছে, তবু আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তিনি জাতীয় পার্টিকে খুব শক্তিশালী রাজনৈতিক দল মনে করেন না। শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গে মাসুদ কামাল বলেন, এই সরকারের গণতন্ত্রে আঘাতের কিছু অংশের জন্য জাতীয় পার্টিও দায়ী।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তার ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, যদি জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি ‘ব্ল্যাংক চেক’ না দিত এবং নিঃশর্ত সহযোগিতা না করত, তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এতটা স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করা এত সহজ হতো না। কিন্তু দলের কিছু নেতা স্বার্থের কারণে আওয়ামী লীগকে অব্যাহত সমর্থন দিয়েছেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল কারণ।
মাসুদ কামাল ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, তখন জাতীয় পার্টির অবস্থান অদ্ভুত ও অস্পষ্ট ছিল। দল প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও সরকার তার মনোনয়ন বাতিল করেনি এবং তাকে নির্বাচিত দেখিয়েছে। এর ফলে জাতীয় পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারলেও তা করতে পারেনি। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল বেগম রওশন এরশাদের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার রওশনপন্থী অবস্থান।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে ঘিরে প্রথম বড় রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয় গণ অধিকার পরিষদের দাবি থেকে, যারা চাইছিলেন জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হোক। এতে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীও যুক্ত হয়।
মাসুদ কামাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান দুই দল হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ‘তৃতীয় শক্তি’ হিসেবে ভারসাম্য রাখে জাতীয় পার্টি ও জামায়াত। ১৯৯১ সাল থেকে দেখা গেছে, প্রধান দুই দলের সমর্থনের দিকেই রাজনৈতিক ভারসাম্য ঝুঁকে যায়। এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় তাদের ভোট কোথায় যাবে, সেটাই মূল প্রশ্ন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার পতনের পর স্থানীয় পর্যায়ে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগপন্থী নিপীড়িতদের সহায়তা দিয়েছে। তারা আশা করেছিল, নৌকা না থাকলে এই ভোটগুলো তারা পাবে। কিন্তু যদি জাতীয় পার্টি ভোটে অংশ নেয়, তবে নির্বাচনের চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন