জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, দেশের বাইরে বসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের সময় শেষ। এখন সিদ্ধান্ত নেবে দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।
সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় পৌরসভার তুলারডাঙ্গা এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দিনের শুরু থেকেই তিনি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও মতামত শোনেন।
সারজিস আলম বলেন, বাইরে থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা আর মেনে নেওয়া হবে না। দেশের তরুণরা এখন সচেতন, সংগঠিত এবং প্রয়োজনে মাঠে নামার প্রস্তুতিতে আছে। দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেশের মানুষেরই।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ব। এমন নির্বাচনই গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।
তরুণদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পঞ্চগড়সহ সারা দেশের তরুণরা অতীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও তারা ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন—আগামী বাংলাদেশ গড়বে কারা? যারা ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি আর হয়রানির রাজনীতি করেছে, নাকি যারা ইনসাফ ও ন্যায়ের কথা বলছে? তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে প্রশাসনসহ সব স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা হবে এবং জনগণ ন্যায়সঙ্গত আচরণ পাবে।
ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সাড়া ইতিবাচক। ভোটাররা প্রকাশ্যে কম কথা বললেও ব্যালটেই তাঁদের মতামত স্পষ্ট হবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারির একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু পঞ্চগড়-১ নয়, সারা দেশেই ১১ দলীয় জোটকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।
বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই প্রশাসনের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এটিকে তিনি ‘ব্লেম গেম’ বলে উল্লেখ করেন।
গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক, এনসিপির কর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন