1. alokitoj@gmail.com : Sobuj Bala : Sobuj Bala
  2. alokitojanapadbd@gmail.com : Alokito Janapad : Alokito Janapad
  3. jmitsolution24@gmail.com : support :
আমার বাবা-আমার ভালোবাসা (পর্ব- ০৩) - Alokito Janapad
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভিন্ন ধর্মের যুগলের প্রেমে বাধা; চুল কেটে শাস্তি মির্জাপুরে গোড়াই হাইওয়ে থানার উদ্যোগে জাতীয় সড়ক দিবস-২০২১পালিত পিরোজপুরের স্বরুপকাঠীতে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালন রাজৈরে নাম পরিচয়হীন মুখ থেথলানো যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার জাতির পিতার সমাধিতে আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন গোপালগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে মসজিদের জমিতে ভবন নির্মাণ বন্ধে মানববন্ধন সুজানগরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা ভারতের করোনার টিকা নেওয়া হয়েছে ১০০ কোটি মানুষের; দাবি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রলায়ের পথিকৃৎ প্রকাশনী এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেন কথাসাহিত্যিক ও কবি শফিক রিয়ান

আমার বাবা-আমার ভালোবাসা (পর্ব- ০৩)

মোঃ অলিউর রহমান
  • Update Time : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ১৮৬ Time View

বাবার ভালোবাসার কোন দাড়ি, কমা, ক্লোন ইত্যাদি যতি চিহ্ন থাকে না অর্থাৎ বিরামহীনভাবে সন্তানের জন্য চলতে থাকে বাবার ভালোবাসা । বাবার ভালোবাসার উল্কা বেগে চলন্ত এই ভালোবাসার পাখিটি ডানা মেলে শুধু উড়তেই থাকে তার ভালোবাসার অসীমের পথে । অনেক সময় বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে বাবা-সন্তানের মধ্যে ক্ষণিকের জন্য রাগ , অনুরাগ , মান- অভিমান ইত্যাদির সৃষ্টি হয়। আর একারণেই বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় বাবার সন্তানের প্রতি তার ভালোবাসার যতিচিহ্ন পড়েছে । কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই সমস্ত রাগ-অনুরাগ, মান-অভিমানের ক্ষণস্থায়ী অথবা অল্প বিরতি নেওয়া বাহ্যিকভাবে প্রদর্শিত অথবা প্রকাশিত বাবার ভালোবাসার যতি চিহ্নের অস্থায়ী খেলার মধ্যে বাবার ভালোবাসা আরো অধিক গাঢ় রং ও নিখুঁত তুলির আঁচড়ে বেশি পাকাপোক্ত হয় । বাবা সন্তানকে নিজেও যেমন নতুনভাবে ভালোবাসার ফ্রেমে বোঝে তেমনি সন্তানও বাবাকে নতুনভাবে ভালবাসার পবিত্র নাবিক হিসাবে আবিষ্কার করে । দুইজনের ভালোবাসা অনুভূতি আর অনুশোচনার অনু-পরমানুর পারমাণবিক শক্তির বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং উভয়ই বুঝতে পারে এগুলো শুধু বাইরের প্রকাশ । কিন্তু চোখের আড়ালে তারা একে অপরকে এই ভালোবাসার মান-অভিমানের প্রাচীরকে ভেঙে ভিতরের সঞ্চিত-পুঞ্জিভূত পৈত্রিক-বাৎসল্য ভালোবাসাকে উজার করে দেয় । পরিলক্ষিত হয় যে, মান-অভিমানের ভালবাসার পর্দার আড়ালের দ্বন্দ্বে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বটে তবে বাবা সন্তানকে এবং সন্তান বাবাকে আলিঙ্গন করার এক অদম্য স্পৃহা নিয়ে ক্ষনিকের সময় পার করছে অতি মনে কষ্ট নিয়ে । এরই নাম বাবা-বেটার আসল এবং পরিনিত ভালোবাসা । চার পাঁচ দিন আগে আমার বন্ধু ইঞ্জিনিয়ার রফিকের বাবা মারা গেলেন । বন্ধু জানালো – আজ আমার মাথার ছাতা এবং মাথার উপরের বটগাছ চলে গেলেন আমাকে ফেলে । আসলেই তো তাই সব বাবারা হচ্ছে তার সন্তানের জন্য একটি দিগন্ত বিস্তৃত বিশাল বড় বটগাছ যার সুশীতল ছায়ায় থেকে সন্তান জীবন পার করে অনেক মহব্বত আর ভালোবাসার টানে । সেই বটগাছের যখন পতন ঘটে অথবা মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে অনন্তের পথে যাত্রা করে তখন হৃদয়কে দুমড়ে-মুচড়ে, ভেঙ্গে একেবারেই চুরমার করে ফেলে । আমার বাবা ১৯৮৩ সালে মারা গিয়েছিলেন । বন্ধু রফিকের বাবার ঠিক ৩৭ বছর আগে । পার্থক্য শুধু এতোটুকু রফিক এই অতিরিক্ত ৩৭ বছর ধরে তার বটগাছ সমতুল্য বাবার পাশে থেকে বাবার ভালোবাসা, স্নেহ, আদর এবং মহব্বতের সুশীতল ছায়ায় থেকে অনেক কাছে হতে তা উপভোগ করেছে । আর আমি এই ৩৭ বছর ধরে পার্থিব দৃষ্টিতে বাবার সান্নিধ্যে থেকে তার আদর মাখা ভালোবাসা এবং হাতের ছোঁয়া উপভোগ করতে পারিনি । কিন্তু বাবার রেখে যাওয়া আদর যত্ন আর ভালোবাসার স্মৃতি , আমার জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু উজার করে ভালো মানুষ গড়ার চেষ্টা ইত্যাদি থেকে আমাকে কখনো দূরে রাখতে পারেনি। সর্বশেষ আমার জন্য আল্লাহর দরবারে তার আজীবন করে যাওয়া দোয়া আমার কাছে অনেক বড় এবং মহামূল্যবান পাওনা হিসেবে এ পর্যন্ত আমার সাথেই সমানতালে দুনিয়ার বুকে বিচরণ করছে । ওই যে কবিরা বলেন – “বড়র প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলে দেয় ” তবে একথা সত্য যে, জীবিত বাবার চেয়ে মৃত বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা এবং হৃদয়ের টান ও আকর্ষণ অনেক বেশি অনুভূত হয় । কেননা জীবিত বাবা বেঁচে থাকতে আমরা তার বটগাছের ছায়া , মহব্বত ও ভালোবাসাকে অনুধাবন, অনুভব এবং বোঝতে শিখি না । বাবা যখন আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে যান তখন তার ওই ভালোবাসার অভাব , বাবার প্রতি নিজের যথাযত আচরণের অভাব, সেবা যত্নের অভাব এবং তাদের প্রতি যথাযথ খেয়াল না রাখার অনুশোচনা এবং আফসোসের কালোথাবা এতিম সন্তানকে একেবারেই নিস্তেজ করে ফেলে । বায়ুর মধ্যে বসবাস করে আমরা যেমন অক্সিজেনের মূল্য বুঝিনা ঠিক তেমনি জীবিত বাবা বেঁচে থাকতে তার অপরিসীম ও মহামূল্যবান অনুদানের কথা আমরা ভালোভাবে বুঝতে পারি না । তাই তোমাদের যাদের বাবা-মা এখনো বেঁচে আছে তাদের বলবো বেশি বেশি করে বাবাকে মূল্যায়ন করতে , ভালবাসতে ও সেবা করতে শেখো । বাবা হচ্ছে পৃথিবীর বুকে আমাদের সবচাইতে বড় গুরুজন এবং শ্রদ্ধার পাত্র । এই দীক্ষাকে ধারণ করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাবাকে সন্তুষ্ট রাখার আপ্রাণ চেষ্টা তোমরা চালিয়ে যাও ।

 

সাহিত্যিক ও লেখক মোঃ অলিউর রহমান

আলোকিত জনপদ .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© 2021 - Alokitojanapad.com. প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Development by: JM IT SOLUTION